পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় মাদক নির্মূলে অভিযান জোরদার করেছে থানা-পুলিশ। গত দুই মাসে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও কঠোর ও বিস্তৃত করা হবে। মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবনের ঘটনা ঘটলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছিল। ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থান ধীরে ধীরে মাদক কারবার ও সেবনের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে মাদক সেবন ও বিক্রির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে উদ্বেগ আরও বাড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গলাচিপা পৌর এলাকায় থানা থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কলোনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো ভবন, উপজেলা পরিষদের গুদামঘরের সামনে, রাতের বেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ, সিনেমা হল মোড়, টিএনটি ভবনের নিচতলা, তহশিল অফিস কমপ্লেক্স, পশু হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবন এবং পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়মিত মাদক সেবনের আসর বসার অভিযোগ রয়েছে।
শুধু পৌর এলাকাই নয়, উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়ন বাজার, চর কাজল, চর বিশ্বাস, পানপট্টি ও বকুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকাতেও দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক কারবার চলার অভিযোগ করে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সম্প্রতি পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে একের পর এক গ্রেপ্তারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, মাদক নির্মূলে সাময়িক নয়, বরং নিয়মিত ও কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে গলাচিপা থেকে মাদকের বিস্তার স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।