পটুয়াখালীর গলাচিপায় প্রায় সাত লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসা মাত্র একটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বিপুলসংখ্যক মানুষের চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের। ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার দুই থেকে তিন গুণ রোগী ভর্তি থাকছেন। এর মধ্যেই উপজেলার দুটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে কার্যত বন্ধ থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকছেন। বিভিন্ন রোগে ভর্তি রোগী মিলিয়ে প্রতিদিন এ সংখ্যা ১০০ থেকে ১৫০ জনের মধ্যে ওঠানামা করছে। সীমিত জনবল ও অবকাঠামোগত সক্ষমতার মধ্যেও রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীরা।
তবে উপজেলার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর চিত্র ভিন্ন। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না স্থানীয়রা।
গলাচিপা ফেরিঘাট এলাকায় ২০২১ সালে নির্মাণ করা হয় ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক সংকটসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা মিলছে না। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে।
অন্যদিকে উপজেলার পানপট্টি এলাকায় ২০১৮ সালে নির্মাণকাজ শেষ হয় আরও একটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি কেন্দ্রটি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় সেখানে থাকা শয্যা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মা ও শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এসব কেন্দ্র চালু না থাকায় গর্ভবতী নারী, প্রসূতি ও শিশুসহ সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে একমাত্র সরকারি হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ আরও বাড়ছে।
শুধু মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নয়, উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, এসব কেন্দ্রে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায় না। এমনকি কিছু কর্মী নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলো দ্রুত চালু করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিষয়টি নিয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. জিনাত রেহানার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, জনবল ও মেডিকেল অফিসারের তীব্র সংকট রয়েছে। এ কারণে সব জায়গায় কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি জানান, বর্তমানে রি-সাফলিং বা পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে এসব কেন্দ্রে সেবা চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রয়োজন অনুযায়ী স্থায়ী চিকিৎসক পদায়ন করা হবে।
এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসক পদায়নের মাধ্যমে বন্ধ থাকা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলো চালু করা হবে। এতে একদিকে মা ও শিশুর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর অতিরিক্ত রোগীর চাপও কিছুটা কমবে।