পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাধারে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ৩০টি অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর। সোমবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর এবং থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে বোয়ালিয়া খালসহ উপজেলার বিভিন্ন খাল ও জলধারা থেকে মাছের পোনা নিধনে ব্যবহৃত ৩০টি অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী।
জব্দকৃত জালগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। পরে বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হকের উপস্থিতিতে জব্দকৃত জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
এদিকে একই দিনে রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য অফিস ও নৌ-পুলিশের যৌথ অভিযানে আরও ১৪টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। পরে সেগুলোও পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এবং রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জহিরুন্নবী বলেন, “চায়না দুয়ারি জাল দেশের মৎস্যসম্পদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব জালের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছের পোনা ও জলজ প্রাণী নিধন করা হয়, যা দেশের মৎস্য খাতে অপূরণীয় ক্ষতির কারণ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে এসব অবৈধ জাল ধ্বংস করা হয়েছে। নিষিদ্ধ জাল ও অবৈধ মৎস্য আহরণের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরো জানান, নদী-খাল ও জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও পোনা সংরক্ষণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। টেকসই মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “দেশের রুপালি সম্পদ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। অবৈধ জাল বিক্রেতা ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”