সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদে কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী আইন পাস করা হয়েছে অভিযোগ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, কোরআনের বিধানের বিরুদ্ধে হাত দেওয়ার পরিণতি ভালো হবে না। এর আগুনে সরকার নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক অধিকার, গণভোট, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও সার সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে আন্দোলন চলছে। এর মধ্যেই রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদের মুখে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ পাস করা হয়েছে।
বিলটিকে ‘শরিয়াহ পরিপন্থী’ দাবি করে তিনি বলেন, হেবা ও ওসিয়তসংক্রান্ত বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া। এসব বিধানে পরিবর্তন এনে সরকার দেশের কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ১৯৬১ সালে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান পারিবারিক আইনে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিলেন। তবে আলেম সমাজ ও মুসলমানদের আন্দোলনের মুখে তা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। একইভাবে ১৯৩৭ সালে ব্রিটিশ শাসনামলেও মুসলিম পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিশ্বাসকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন গোলাম পরওয়ার।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আইনমন্ত্রী বলেছেন ইসলামি আইন নাকি আধুনিক জগতে চলে না। ধিক্কার জানাই এমন বক্তব্যের! ইসলাম একটি কালজয়ী জীবনবিধান। এটি কিয়ামত পর্যন্ত মানবসভ্যতার একমাত্র ভারসাম্যপূর্ণ পথ নির্দেশক।’
বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া ঠেকাতে হেবা আইনে পরিবর্তনের যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ২০১৩ সালেই পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন করা হয়েছে। সন্তানদের ইসলামি মূল্যবোধে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি দাবি করেন, মূল সমস্যার সমাধান না করে সরকার ইসলামবিরোধী পথ বেছে নিয়েছে।
বিল পাসের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘সংসদে আমাদের বিরোধী দলের নেতা ও এমপিরা প্রতিবাদ করেছেন, ওয়াকআউট করেছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফতোয়া বোর্ড বা দেশের শীর্ষ স্কলারদের মতামত নিতে তারা অনুরোধ করেছিলেন।’
প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ইসলামি স্কলারদের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এসব প্রস্তাব আমলে না নিয়ে আইনটি পাস করেছে।
গুম অধ্যাদেশ ও মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনেরও সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তার অভিযোগ, এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে যেখানে গুমের অভিযোগে অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্ট পক্ষই তদন্তের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা কমিয়ে সরকারের হাতে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে গোলাম পরওয়ার সরকারকে আইনটি দ্রুত প্রত্যাহার করে ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামি স্কলারদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যথায় গণভোট ও জনগণের দাবি উপেক্ষার প্রতিবাদে রাজপথের আন্দোলন আরও জোরালো হবে এবং একপর্যায়ে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।