প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন বলেছেন, জামায়াতের লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু তারা সহযোগিতা চেয়েছিলো, পুলিশ প্রটেকশন দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত জামায়াতের গাড়ি বহর নিয়ে যায়। সহযোগিতা না চাইলেও পুলিশ একই ধরনের নিরাপত্তা প্রদান করতো।
গতকাল রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, তবে, পরিকল্পিতভাবে একটা ঝামেলা করার প্ল্যান ছিল জামায়াতের। রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করেছিল। জানি না, এই লাঠিগুলো পরবর্তীতে বহরের গাড়িতে তোলা হয় কি না। জামায়াতের বহরে শীর্ষ নেতারা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন, হৈ হৈ রৈ রৈ ছাত্রদল, যুবদল গেলি কই!
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, অনেকে বলছে, সবকিছু দেখে মনে হলো, এটি জামায়াতের ব্যবস্থাপনায়, অর্থায়ন ও জনবলে এনসিপির লংমার্চ। জামায়াত যেহেতু সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না, সেক্ষেত্রে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পিছনে রেখে, মাঝখানে থেকে খেলতে চায়!
জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ও অ্যাকটিভিস্ট এনসিপিকে জামায়াতের মুখপাত্র বানানোকে মানতে পারছে না মন্তব্য করে তিনি লেখেন, তাদের মন্তব্য এমন যে, এনসিপি আজ হোক আর আগামীকাল হোক, জামায়াত জোট ছাড়বে। সুতরাং তাদের কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে! এ নিয়ে সচেতন নেতাকর্মীদের খুব আক্ষেপ পরিলক্ষিত হলো!
রাশেদের ভাষ্য-জামায়াত জোটে কারা আছে? এনসিপিকে বিএনপি ৪ টার বেশি আসন ছাড়েনি, এজন্য জামায়াতে গেছে। আর মাওলানা মামুনুল হক সাহেবের দলও পর্যাপ্ত আসন পেলে বিএনপিতেই থাকতো। এছাড়া বাকিরা ১ টা করে আসন না পেয়ে জামায়াতে গেছে। ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে, এরা সবাই আবার বক্তব্য পরিবর্তন করে ব্যাক করবে!
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী লেখেন, সব মিলিয়ে জামায়াত যাদের ওপর ভরসা রেখে এত অর্থকড়ি খরচ করছে, তারাই একদিন জামায়াতকে এমন দেওয়া দিবে যে জামায়াত আর ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে না! জামায়াত স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানচিত্রবিরোধী শক্তি, ভারতের এক্সটেনশন, সংস্কারের নামে ভণ্ডামি করছে। জামায়াত ইসলামিক দল নয় থেকে শুরু করে কী বলে নাই এনসিপি?
শেষে তিনি লেখেন, তাই বলি, ভবিষ্যতের ডায়েরি এখন থেকে কিনে রাখুন, কী কী বলবে সেটি নোট করার জন্য!
জামায়াতের নেতাকর্মীরা মনে রাখুন, এনসিপি ৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছে। বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলেও জনশ্রুতি আছে। আর কিছু বললাম না….শুধু এতটুকু বলবে, একদিন আপনারাই বলবেন, দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষলাম!