ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ছাত্রশিবিরকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা অপবাদ ও প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে। আগে কখনো ‘রাজাকার’, কখনো ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলা হতো, আর এখন নতুন করে ‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এ প্লাস পাওয়া পাঁচ শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো আমাদের নানা প্রোপাগান্ডা, নানাভাবে অপবাদ দেওয়া হয়। কখনো আমাদের রাজাকার, কখনো যুদ্ধাপরাধী বলা হয়েছে। এখন একটা শব্দ বের হয়েছে ‘গুপ্ত’। তোমাদের এখানে আসার আগেও শুনলাম ‘গুপ্ত’।’
তিনি বলেন, ‘এত সুন্দর বড় একটি অনুষ্ঠান শিল্পকলায় হচ্ছে, এরপরও কেউ না কেউ ফেসবুকে এসে লিখবে ‘গুপ্ত’। তার সঙ্গে একসঙ্গে বসে আমরা টকশো করছি, এরপরও তিনি আমাদের বলছেন ‘গুপ্ত’।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ছাত্রশিবিরের সাবেক এই সভাপতি বলেন, আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, আদর্শ ও দেশপ্রেমে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সৎ, নীতিবান ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।
জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ বিল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি আবু আহমেদ।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মোহাম্মদ আজিজুল হক, সাবেক নায়েবে আমির মুসাদ্দেক ভুঁইয়া এবং জামায়াতের নবীন সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এ প্লাস পাওয়া পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন।
পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত, কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, অতিথি ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।