বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

চুরি করে রাঘববোয়াল, সাঁজা হয় শুধু পিয়নটার, আবু সাইদ হত্যা মামলার রায় ও ন্যায়বিচারের অপূর্ণতা-বাপ্পি

দীর্ঘ ১ বছর ৮ মাস ২৪ দিনের প্রতীক্ষা শেষে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদের হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০২৪ সালের সেই উত্তাল জুলাইয়ে আবু সাইদ ছিলেন ছাত্র-জনতার জাগরণের প্রথম স্পুলিঙ্গ। ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার স্বৈরাচারী শক্তি ভেবেছিল, লাশের স্তূপ সাজিয়ে ভয় ও আতঙ্কের চাদরে ছাত্রসমাজকে ঢেকে […]

চুরি করে রাঘববোয়াল, সাঁজা হয় শুধু পিয়নটার, আবু সাইদ হত্যা মামলার রায় ও ন্যায়বিচারের অপূর্ণতা-বাপ্পি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:১৭

দীর্ঘ ১ বছর ৮ মাস ২৪ দিনের প্রতীক্ষা শেষে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদের হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০২৪ সালের সেই উত্তাল জুলাইয়ে আবু সাইদ ছিলেন ছাত্র-জনতার জাগরণের প্রথম স্পুলিঙ্গ। ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার স্বৈরাচারী শক্তি ভেবেছিল, লাশের স্তূপ সাজিয়ে ভয় ও আতঙ্কের চাদরে ছাত্রসমাজকে ঢেকে দেওয়া যাবে। তাই তো আন্দোলন দমাতে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো এক তরুণকে স্তব্ধ করে দিলো। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করেছে, আবু সাইদের সেই রক্তরঞ্জিত শার্টই শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারের পতনের মানচিত্রে পরিণত হয়েছিল।

​তবে রায়ের পর আজ বড় প্রশ্ন এই রায় কি ন্যায়বিচারের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটাতে পেরেছে?

​দণ্ডের ব্যবচ্ছেদ ও গণঅসন্তোষ:

​প্রকাশিত রায়ে দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন ও ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও জনমনে অস্বস্তি কাটছে না। বিশেষ করে আবু সাইদকে লাঠিচার্জ ও নির্মম শারীরিক নির্যাতন করা ছাত্রলীগ নেতা পোমেল বড়ুয়ার ১০ বছরের সাজা নিয়ে খোদ শহীদের পরিবার ও সহপাঠীরা ক্ষুব্ধ। গুরু অপরাধে ছাত্রলীগ নেতার এমন লঘুদণ্ড জনমনে যথেষ্ট প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। যখন একজন ঘাতকের নির্মমতা স্পষ্ট, তখন এমন লঘু দণ্ড বিচারিক প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। শহীদের পিতা মকবুল হোসেনের কান্নাসিক্ত কণ্ঠে যখন ‘অসন্তোষ’ ঝরে পড়ে, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে, এই রায় আইনি প্রক্রিয়া পূর্ণ করলেও ‘ইনসাফ’ বা সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হোঁচট খেয়েছে।

​হুকুমদাতা বনাম আজ্ঞাবহ সিস্টেমের পুরনো ক্ষত:

​আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এটি ছিল একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’। প্রশ্ন ওঠে এই পরিকল্পনার মাস্টারমাইন্ড কারা? মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমির হোসেন এবং সুজন চন্দ্র রায় যথাক্রমে এএসআই ও কনস্টেবল পদমর্যাদার। পুলিশি কাঠামোতে ১১ বা ১২তম গ্রেডের এএসআই এবং ১৭তম গ্রেডের কনস্টেবলের পক্ষে কি নিজ সিদ্ধান্তে এমন রাজনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা সম্ভব? তারা কি এমন রাজনৈতিক ও কৌশলগত খুনের মাস্টারমাইন্ড হতে পারে?

​সাবেক এএসআই আমির হোসেনের শেষ উক্তিটি এ দেশের বিচারিক ইতিহাসের জন্য এক ট্র্যাজিক কৌতুক:

​“আমি শুধু সরকারের হুকুম পালন করেছি… আমি সরকারের হুকুমের গোলাম। জয় বাংলা।”

​তার এই স্বীকারোক্তিই বলে দেয়, অপরাধের শেকড় কত গভীরে। এই ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটিই প্রমাণ করে, হত্যাকাণ্ডের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা কোন পর্যায় থেকে এসেছিল। এটাই এই মামলার রাজনৈতিক ও সামাজিক সত্য। যখন এএসপি, এসপি বা কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তারা নির্দেশ দেন, তখন মাঠপর্যায়ের সদস্যদের তা অমান্য করার সুযোগ সীমিত থাকে। অথচ রায়ে বড় কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি বা লঘু সাজার বিপরীতে ছোটদের বলির পাঁঠা করার প্রবণতা স্পষ্ট। বাস্তবতা হচ্ছে, বড়রা বাঁচে আর ছোটরা পুড়ে। আর এটাই আমাদের সিস্টেমের কঠোর সত্য।

​এই রায়ের শিক্ষা ও আমাদের করণীয়:

​১. হুকুমদাতাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা: ন্যায়বিচারের প্রধান শর্ত হলো অপরাধের উৎস খুঁজে বের করা। যারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে ‘শুট টু কিল’ বা ‘বুক লক্ষ্য করে গুলি’ করার মৌখিক বা লিখিত নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাদের বিচারের বাইরে রেখে বিচারিক প্রক্রিয়া পূর্ণ হতে পারে না। রাষ্ট্রপক্ষকে অবিলম্বে উচ্চ আদালতে আপিল করে এই পরিকল্পনার মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে হবে।

​২. পুলিশ বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার: ‘হুকুমের গোলাম’ হওয়ার সংস্কৃতি থেকে পুলিশ বাহিনীকে বের করে আনতে হবে। কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অবৈধ বা অমানবিক নির্দেশ পালনে অস্বীকৃতি জানানোর আইনি সুরক্ষা কনস্টেবল থেকে শুরু করে নিচের সারির সদস্যদের দিতে হবে। অন্যথায়, ক্ষমতার পালাবদলে বারবার পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হবে।

​৩. ছাত্রলীগ ও রাজনৈতিক ক্যাডারদের বিচার: সহিংসতায় লিপ্ত রাজনৈতিক ক্যাডারদের শাস্তির ক্ষেত্রে কোনো নমনীয়তা দেখানো বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী। পোমেল বড়ুয়াসহ মাঠপর্যায়ের অন্যান্য নিপীড়কদের সাজার মাত্রা অপরাধের ভয়াবহতা অনুযায়ী পুনঃনির্ধারণ করা জরুরি।

পরিশেষে, ​শহীদ আবু সাইদ কেবল একটি নাম নয়, তিনি একটি নব্য বাংলাদেশের ইশতেহার। শহীদ আবু সাইদের রক্তরঞ্জিত রাজপথ আজন্ম সাক্ষী হয়ে থাকবে এক অসম যুদ্ধের। তার রক্তে কেনা এই স্বাধীনতায় যদি ‘অর্ধেক সত্য’ বা ‘অর্ধেক বিচার’ প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা হবে শহীদদের আত্মার সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। ন্যায়বিচার যেন কেবল নিম্নপদের কর্মচারীদের ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে ওপরতলার অপরাধীদের আড়াল করার হাতিয়ার না হয়। আবু সাইদের পরিবার ও দেশবাসী এমন এক বিচার দেখতে চায়, যেখানে অপরাধী যে স্তরেরই হোক—তার দণ্ড হবে প্রশ্নাতীত এবং সমানুপাতিক। ইতিহাসের পাতায় এই রায় যেন কেবল একটি নথিপত্র হয়ে না থাকে, বরং আগামীর বাংলাদেশের জন্য এক নির্ভীক ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার উদাহরণ হয়ে ওঠে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।