জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ধরে রাখতে চেয়েছিল ফ্যাসিবাদী সরকার। তিনি বলেন, “আমরা প্রত্যক্ষ করেছি—শুধু গুলি নয়, গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে তারা দেশের মানুষকে দমন করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, জনগণের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারেনি।”
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় সরকারি নির্দেশনায় সারাদেশের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে এ বার্তা দেন তিনি। ভিডিও বার্তায় ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। আমরা চাই এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে উঠুক—যেখানে কোনো ভিন্নমত দমন করা হবে না, কেউ গুম বা খুন হবে না, এবং মানুষকে কথা বলার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “অত্যাচার-নিপীড়নের রাজনীতি আর চলতে পারে না। এখন সময় একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র নির্মাণের। আমাদের প্রত্যেককে এ আন্দোলনের রূপকার হতে হবে—যে আন্দোলনের মূল কেন্দ্রে থাকবে মানুষ, ন্যায়বিচার এবং সমান অধিকার।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই দেশ কারো পারিবারিক সম্পত্তি নয়। দেশের মালিক জনগণ। তাই রাষ্ট্র চালাবেন জনগণের প্রতিনিধিরাই। আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সে পথেই এগোতে চাই।”
ড. ইউনূসের এই বক্তব্য দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেছেন—বাংলাদেশ সত্যিই পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।