পটুয়াখালীর বাউফলে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে অপর একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে দুই শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকার সন্দেহে আরও সাত শিক্ষার্থীকে থানায় নেওয়া হলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের এনামুল হক মামুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সদর ইউনিয়নের পূর্ব জৌতা গ্রামে স্থানীয় কিশোর-তরুণদের মধ্যে একটি ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়। খেলার ফলাফলকে কেন্দ্র করে এনামুল হক মামুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিপক্ষ দলের এক কিশোরের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৫ থেকে ২০ জন কিশোর মারামারির উদ্দেশ্যে এনামুল হক মামুন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নানের নজরে এলে তিনি তাদের বিদ্যালয়ে প্রবেশের কারণ জানতে চান। অভিযোগ রয়েছে, কোনো উত্তর না দিয়ে তারা বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রধান শিক্ষক তাদের বাধা দেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান বলেন, “পাঠদান চলাকালে বহিরাগত কিশোরদের বিদ্যালয়ে ঘোরাঘুরি করতে দেখে তাদের কারণ জানতে চেয়েছিলাম। তারা কোনো উত্তর না দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমি বাধা দিই। তখন তারা আমার ওপর হামলা চালিয়ে আমাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। আমি চিৎকার করলে তারা পালিয়ে যায়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন দুইজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।”
তিনি আরও বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে আগে কোনো বিরোধের বিষয়টি তার জানা ছিল না। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আটক দুই শিক্ষার্থী অপর একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে। তাদের বয়স আনুমানিক ১৩ থেকে ১৫ বছর হতে পারে।
এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে। তাদের সঙ্গে থাকা সন্দেহে আরও সাত শিক্ষার্থীকে থানায় নেওয়া হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই সাতজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে। আটক দুই শিক্ষার্থী কিশোর হওয়ায় তাদের ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় জড়িত না হওয়ার বিষয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। পরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে অভিভাবকের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।