মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে অটোরিকশার গ্যারেজে ঢুকে পাহারাদারকে বেঁধে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে বিপুলসংখ্যক পুরোনো ব্যাটারি ও চার্জার লুটের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুট হওয়া ৯৫টি পুরোনো ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পদ্মা সেতু (উত্তর) থানাধীন দক্ষিণ মেদেনীমণ্ডল মাওয়া পুরাতন ঘাট এলাকার ‘সুরেশ্বর ফারুক’ অটোরিকশার গ্যারেজে মুখোশধারী ৩-৪ জন ব্যক্তি প্রবেশ করে। তারা গ্যারেজের দরজার শিকল ও তালা কেটে ভেতরে ঢোকে। পরে পাহারাদার মাসুমকে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে এবং গামছা দিয়ে মুখ চেপে ধরে। একপর্যায়ে রামদা ও ছুরি দেখিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং মারধর করা হয়।
পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা গ্যারেজে থাকা ২২টি অটোগাড়ি থেকে ৯৫টি পুরোনো ব্যাটারি ও ২২টি চার্জার বের করে একটি অজ্ঞাত পিকআপে তুলে নিয়ে যায়। লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় ২৪ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতু (উত্তর) থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে মো. মাসুদ (৩৩) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে বাদীর শনাক্ত করা লুট হওয়া ৯৫টি পুরোনো ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ জানায়, সিরাজদিখানের মালখানগর চৌরাস্তার আছলাম সাইকেল স্টোরের মালিক আছলাম শেখের কাছ থেকে সে ৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকায় ব্যাটারিগুলো কিনেছে। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে অভিযান চালিয়ে আছলাম শেখ (৩৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আছলাম জানান, টঙ্গীবাড়ির মো. সজিব ফকির ও তার এক বন্ধু বিক্রির উদ্দেশ্যে ব্যাটারিগুলো তার কাছে নিয়ে আসে। পরে আছলাম সাইকেল স্টোরের ক্যাশ মেমো ব্যবহার করে মাসুদের কাছে ৯৫টি ব্যাটারি বিক্রি করা হয়।
এরপর রাত সোয়া ১০টার দিকে টঙ্গীবাড়ির দক্ষিণ বেতকা নতুন বাজার এলাকা থেকে সজিব ফকির (২৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সজিব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার আছলাম শেখের বিরুদ্ধে সিরাজদীখান ও শ্রীনগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চারটি মামলা রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।