মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে এখনও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। প্রতিদিনই কোনো না কোনো পণ্যের দামে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সবজির বাজারে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে, আবার কয়েকটি পণ্যের দাম কমেছে। অন্যদিকে মাছ, মুরগি ও ডিমের দাম বেশ কিছুদিন ধরে তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের সংসারের বাজার সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন বাজারের নিত্যপণ্যের দামের চিত্র পর্যালোচনা করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় কাঁচা মরিচ, বরবটি, গোল বেগুন, শিম ও শসার দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা। একইভাবে বরবটির দাম ৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা।
গোল বেগুনের দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে দাম ১৪০ টাকা। তবে লম্বা বেগুনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গত সপ্তাহের মতো বর্তমানে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শিমের দাম বর্তমানে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি। কিছুদিন আগেও যা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা ছিল। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। শসার দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি থাকলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়।
তবে সবজির বাজারে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। টমেটোর দাম কমেছে। গত সপ্তাহে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি থাকলেও বর্তমানে তা ১০০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা কমেছে। গাজর গত সপ্তাহের মতোই ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
পেঁপের দামও কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে ৪০ টাকা থাকলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে।
এদিকে ঝিঙে ও করলার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গত সপ্তাহে উভয় সবজির দাম ৮০ টাকা কেজি ছিল, বর্তমানে একই দামে বিক্রি হচ্ছে। পটলের দামও গত সপ্তাহের সর্বনিম্ন দামের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গত সপ্তাহে ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৮০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। ঝিঙা, ধুন্দুল ও চিচিঙ্গার দামও গত সপ্তাহের মতো ৮০ টাকা কেজি।
বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, প্রতিদিন সবজির দাম একই থাকে না। আড়তে সরবরাহ এবং কেনা দামের ওপর খুচরা বাজারের দাম নির্ভর করে। কোনোদিন সরবরাহ কম থাকলে দাম বেড়ে যায়, আবার সরবরাহ বাড়লে কিছু সবজির দাম কমে।
একজন সবজি বিক্রেতা বলেন, আড়তে যে দামে সবজি কিনতে হয়, তার সঙ্গে পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ যোগ করে খুচরা দাম নির্ধারণ করতে হয়। ফলে সরবরাহ ও কেনা দামের পরিবর্তনের সঙ্গে বাজারেও দামের ওঠানামা দেখা যায়।
বাজার করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, কয়েকটি সবজির দাম কমলেও অনেক সবজি এখনও আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। একসঙ্গে কয়েক ধরনের সবজি কিনতে গেলে মোট খরচ অনেক বেড়ে যায়। সীমিত বাজেটের মধ্যে বাজার করা তাই কঠিন হয়ে পড়ছে।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই
সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। পুকুরে চাষ করা পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ২৬০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।
অন্যদিকে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে কেজিপ্রতি হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।
একজন মাছ বিক্রেতা বলেন, আড়তে মাছের দাম বেশি থাকায় তাদেরও বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ রয়েছে। ফলে কেনা দাম বেশি হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। কয়েক সপ্তাহ ধরেই মাছের বাজার প্রায় একই অবস্থায় রয়েছে।
এক ক্রেতা বলেন, মাছ, মুরগি ও মাংস—কোনোটির দামই তেমন কমেনি। কয়েকদিন ধরে প্রায় একই দামে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ফলে বাজারে এসে আগের মতোই বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
কমেনি মুরগি ও ডিমের দাম
মুন্সীগঞ্জের বাজারেও ফার্মের মুরগি ও ডিম তুলনামূলকভাবে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। দেড় মাস আগে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা কম ছিল।
বর্তমানে ফার্মের বাদামি রঙের এক ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা। সাদা রঙের ডিম ১০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে। মাস দেড়েক আগেও একই দামে ডিম বিক্রি হয়েছে।
এ ছাড়া গতকাল সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং হাইব্রিড তথা কালারবার্ড সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গত এক-দুই সপ্তাহে এসব মুরগির দামও কমেনি।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত সরবরাহের ওপর নির্ভর করে সপ্তাহ বা মাসের ব্যবধানে মুরগির দাম ওঠানামা করে। তবে এবার প্রায় দেড় মাস ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম একই জায়গায় রয়েছে।
এক ডিম বিক্রেতা বলেন, কয়েকদিন ধরে ডিমের দাম প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। পাইকারি বাজারে দাম খুব একটা কমছে না। ফলে খুচরা পর্যায়েও কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ক্রেতারা দাম নিয়ে অভিযোগ করলেও বিক্রেতাদের বেশি দামে ডিম কিনে আনতে হচ্ছে।
মুরগি কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, মুরগির দাম এখনও আগের মতোই রয়েছে। পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী মুরগি কিনতে গেলেও বেশ ভালো অঙ্কের টাকা খরচ হচ্ছে। দাম কিছুটা কমলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি ফিরত।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, গত পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও গরমের কারণে অনেক খামারে ডিম পাড়া মুরগি ও ব্রয়লার মুরগির সংখ্যা কমেছে। এতে সামগ্রিকভাবে সরবরাহে ঘাটতি থাকায় ডিম ও মুরগির দাম কমছে না।
সব মিলিয়ে মুন্সীগঞ্জের বাজারে কিছু সবজির দাম কমলেও মাছ, মুরগি ও ডিমসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামে এখনও স্বস্তি ফেরেনি। প্রতিদিনের বাজারে দামের এমন ওঠানামায় সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে সীমিত আয়ের ক্রেতাদের ওপর।