মো: মোকলছুর রহমান
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) সফর ছিল তার মধ্যপ্রাচ্য সফরের চূড়ান্ত ও সবচেয়ে আলোচিত অংশ। এই সফরে তিনি সৌদি আরব ও কাতার সফর শেষে আবুধাবি ও দুবাইয়ে পৌঁছান, যেখানে তাকে রাজকীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং বহু আর্থিক ও কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ট্রাম্পের আগমনে আবুধাবির আকাশে আমেরিকান পতাকা প্রদর্শন করে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফা । তিনি আবুধাবির প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ কাসর আল ওয়াতানে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেন এবং শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কাছ থেকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘অর্ডার অব জায়েদ’ গ্রহণ করেন ।
এছাড়া, ট্রাম্প ঐতিহ্যবাহী আল-আইয়ালা নৃত্য উপভোগ করেন, যেখানে সাদা পোশাক পরিহিত নারী ও পুরুষরা ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নৃত্য পরিবেশন করেন
ট্রাম্পের সফরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও UAE-এর মধ্যে $২০০ বিলিয়ন মূল্যের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে যৌথ ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে । এছাড়া, UAE আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে $১.৪ ট্রিলিয়ন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়, যা AI ও প্রযুক্তি খাতে ফোকাস করবে ।
ট্রাম্প দাবি করেন, তার মধ্যপ্রাচ্য সফরে মোট $১০ ট্রিলিয়ন মূল্যের চুক্তি সম্পাদিত হয়
ট্রাম্প আবুধাবির শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ পরিদর্শন করেন, যা বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদগুলোর একটি। এছাড়া, তিনি আব্রাহামিক ফ্যামিলি হাউস পরিদর্শন করেন, যা ইসলাম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি ধর্মের সহাবস্থানের প্রতীক।
ট্রাম্পের দুবাইয়ে ব্যবসায়িক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তিনি ২০১৭ সালে দুবাইয়ে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গলফ ক্লাব উদ্বোধন করেন, যা DAMAC প্রপার্টিজের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত। এছাড়া, ২০২৫ সালে পুনরায় অনুমোদিত ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড টাওয়ার প্রকল্প ২০৩১ সালে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে
ট্রাম্পের সফরকে অনেকেই তার “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন, যেখানে অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি মানবাধিকার ইস্যুতে পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলোর তুলনায় কম গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সৌদি আরব, কাতার ও UAE-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন ।
এই সফর ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় কিছু সমালোচক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে তার পরিবারের মধ্যপ্রাচ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অন্যান্য বিনিয়োগের প্রসার ঘটতে পারে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?