জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সমাপ্তি ঘটেছে। তার মতে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে আর কাউকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে দেখা যাবে না।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। তবে যেসব রাজনৈতিক শক্তিকে দলটি ধ্বংস করতে চেয়েছিল, তারা এখনো দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি যদি স্বৈরাচারী আচরণ করতে চায়, আমরা তা হতে দেব না। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা সবসময় কথা বলব। যে-ই এসব করবে, তার বিরুদ্ধেই অবস্থান নেব।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, তাদের রাজনৈতিক লড়াই কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়; বরং ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে। দেশের সম্পদ লুটপাট বন্ধে প্রয়োজন হলে বিএনপির বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়া হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ বঞ্চনার শিকার হয়েছে এবং বর্তমানে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কাউকে চাঁদা দেবেন না, ঘুষ দেবেন না—এই অঙ্গীকার করুন। আমরা জনগণের পক্ষে কথা বলি, কোনো পদ-পদবির জন্য রাজনীতি করি না।’
শেখ হাসিনাকে নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তিনি দেশে ফিরলে জনগণ তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে। এছাড়া সীমান্ত হত্যা, বিচারহীনতা এবং বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়েও তিনি সরকারের সমালোচনা করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সীমান্ত হত্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অনেক রাজনৈতিক নেতা নীরব থাকেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহতদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বিচার না হলে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এসব বক্তব্য ও অভিযোগ তাদের নিজস্ব বক্তব্য। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।