জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, মামলা বা গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি বন্ধ করা যাবে না। তিনি বলেন, ‘ধরে জেলে নিয়ে গেলে জেলে চলে যাব। আর যদি মেরে ফেলে, তাহলে কবরে চলে যাব।’
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হবিগঞ্জের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামার প্রসঙ্গ তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, একজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করার পর উল্টো তার বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘একজনকে মারবে, তার চোখ তুলে ফেলবে, এরপর তার নামেই মামলা দেবে। এটা তো তারেক রহমানের সংস্কৃতি।’
নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ছিনতাই মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আইফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। এটা কী ধরনের অভিযোগ? অত্যন্ত হাস্যকর ও ভিত্তিহীন।’
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তার দাবি, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং মামলা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘তারেক রহমানের নতুন সরকার মামলা করবে, টেন্ডারবাজি করবে, দুর্নীতি করবে, সন্ত্রাস করবে—যা ইচ্ছা তাই করবে। কিন্তু এসবেরও একদিন শেষ হবে।’
রাজনীতির নামে সহিংসতার সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘রাজনীতির নামে গ্যাংবাজি করার কী দরকার? যদি গ্যাংবাজিই করতে চান, তাহলে সেটাই ঘোষণা দিয়ে করুন। রাজনীতির নামে অপসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা উচিত নয়।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির কয়েকজন নেতার কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।
তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, হবিগঞ্জ শহরে ছাত্রদল ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।