সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত দুই দিন ধরে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা তরুণীর সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। তরুণীর বাবাও গণমাধ্যমে একই দাবি করেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনি এলাকায় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ‘সচেতন নাগরিক’ ব্যানারে একটি ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তার কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর দলীয় গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে দলের হাইকমান্ড। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা, এমনকি বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও আসতে পারে।
এদিকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকের উল্লাহ বলেন, কোনো ভিডিও ভাইরাল হওয়া, নৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হওয়া বা অভিযোগ ওঠার কারণে একজন সংসদ সদস্যের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার বিধান সংবিধানে নেই।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার নির্দিষ্ট কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা অথবা সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া। এর বাইরে কেবল নৈতিক বিতর্ক বা অভিযোগের ভিত্তিতে সংসদ সদস্যের পদ বাতিল হয় না।