জামায়াতের লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হলেও কর্মসূচি ঘিরে দলটির ‘পরিকল্পিতভাবে ঝামেলা করার প্ল্যান ছিল’ বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।
এক স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘জামায়াতের লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। যেহেতু তারা সহযোগিতা চেয়েছিল, পুলিশ প্রটেকশন দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত জামায়াতের গাড়িবহর নিয়ে যায়। সহযোগিতা না চাইলেও পুলিশ একই ধরনের নিরাপত্তা প্রদান করত।’
তবে লংমার্চ ঘিরে পরিকল্পিতভাবে ঝামেলা তৈরির চেষ্টা ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাশেদ লেখেন, ‘পরিকল্পিতভাবে একটা ঝামেলা করার প্ল্যান ছিল জামায়াতের। রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোটা জড়ো করেছিল। জানি না, এই লাঠিগুলো পরে বহরের গাড়িতে তোলা হয় কি না।’
লংমার্চের বহরে শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন রাশেদ খাঁন। উদাহরণ হিসেবে ‘হৈ হৈ রৈ রৈ, ছাত্রদল, যুবদল গেলি কই’ স্লোগানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
লংমার্চের রাজনৈতিক চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী। তার ভাষ্য, পুরো কর্মসূচি দেখে অনেকের মনে হয়েছে, এটি জামায়াতের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবলে এনসিপির লংমার্চ।
রাশেদ খাঁনের দাবি, জামায়াত সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না। এ কারণে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে দলটি।
তবে জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট এনসিপিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। তাদের বক্তব্য তুলে ধরে রাশেদ লেখেন, ‘এনসিপি আজ হোক আর আগামীকাল হোক, জামায়াত জোট ছাড়বে। সুতরাং তাদের কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?’
জামায়াতের জোটসঙ্গীদের নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তার দাবি, আসন সমঝোতাকে কেন্দ্র করেই কয়েকটি দল বিএনপির পরিবর্তে জামায়াতের সঙ্গে গেছে। ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসনে সমন্বয় করতে পারলে এসব দলের রাজনৈতিক অবস্থান আবারও পরিবর্তন হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘জামায়াত যাদের ওপর ভরসা রেখে এত অর্থকড়ি খরচ করছে, তারাই একদিন জামায়াতকে এমন ধাক্কা দেবে যে, জামায়াত আর ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে না।’
এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার দাবি, দলটি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি এনসিপিকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে—এমন ‘জনশ্রুতি’ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এনসিপির অতীতের বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরে দলটির সঙ্গে জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন।
সবশেষে জামায়াতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘ভবিষ্যতের ডায়েরি এখন থেকে কিনে রাখুন, কী কী বলবে সেটি নোট করার জন্য!’
আরেক সতর্কবার্তায় রাশেদ খাঁন বলেন, ‘একদিন আপনারাই বলবেন, দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষলাম।’