গত ২১ জুলাই নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার পর রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো নানা গুজব ও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে সেনা সদর দপ্তর।
বুধবার (৩১ জুলাই) সেনাবাহিনীর পরিচালক (মিলিটারি অপারেশনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম-উদ-দৌলা এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “কেউ কেউ বলে আমরা শিক্ষকদের মারধর করেছি বা মৃতদেহ লুকিয়ে রেখেছি। আমরা কেন নিষ্পাপ শিশুদের মৃতদেহ লুকিয়ে রাখব? তাদের বাবা-মা তো সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।”
তিনি জানান, ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খলার সময় কারও সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়ে থাকলে তা অনিচ্ছাকৃত এবং কেবল রাস্তা পরিষ্কার করতে গিয়েই হয়েছিল। সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত সাড়া দিয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেন এবং নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুদের উদ্ধার করেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম জানান, উদ্ধার অভিযানে ২৯ জন সেনা সদস্য আহত হন এবং এখনও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা কৃতিত্ব নিতে চাই না, আমাদের কাজই আমাদের পরিচয়।”
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর কেউ কেউ পানি বিক্রি করে ৬০০ টাকা নিচ্ছিল, কেউ ভিডিও করছিল, অথচ কেউ সাহায্য করেনি—এটাই বাস্তবতা। এ সময় তিনি বিএনসিসি, স্কাউটস ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
মৃত পাইলটের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নাজিম বলেন, “তিনি চাইলে বেরিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবন দিয়ে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়েছেন।”
তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন যেন গুজব নয়, বরং আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার দিকটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।