বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

শিবির জয়ী হলে ক্যাম্পাসে নারীদের নিরাপত্তা বাড়বে : সাদিক কায়েম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির ঘোষিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’র সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন আবু সাদিক কায়েম। শিবিরে প্যানেল ডাকসুতে জয়ী হলে নারীদের নিরাপত্তা কেমন হবে, ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির রূপরখো এবং বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভবিষ্যত চিন্তাসহ নানা বিষয়ে ইত্তেফাক ডিজিটালের সঙ্গে কথা বলেছেন ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম। শিবির জয়ী হলে […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ আগস্ট ২০২৫, ২১:৫৭

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির ঘোষিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’র সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন আবু সাদিক কায়েম।

শিবিরে প্যানেল ডাকসুতে জয়ী হলে নারীদের নিরাপত্তা কেমন হবে, ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির রূপরখো এবং বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভবিষ্যত চিন্তাসহ নানা বিষয়ে ইত্তেফাক ডিজিটালের সঙ্গে কথা বলেছেন ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম।

শিবির জয়ী হলে ক্যাম্পাসে নারীদের স্বাধীনতায় কোনো শঙ্কা তৈরি হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সাদিক কায়েম বলেন, শিবির ডাকসুতে জয়ী হলে নারীদের স্বাধীন চলাচলে বাধা আসবে— এটি সম্পূর্ণ একটি প্রোপাগান্ডা। আমাদের নেতৃত্বের উপর নারীরা আরও বেশি আস্থাশীল।

আগের নির্বাচনগুলোতেও আমাদের প্রার্থীরা নারীদের থেকে বেশি সাড়া পেয়েছেন। যারা আমাদেরকে আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করতে পারছে না, তারা আমাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিথ্যা বিষোদগার করছে। আমরা চাই এই ক্যাম্পাসকে নারীদের জন্য আরও বেশি নিরাপদ ক্যাম্পাস হিসেবে তৈরি করতে। এটি আমাদের প্রতিজ্ঞা।

জোর দিয়ে তিনি বলেন, নারীরা আমাদের বোন, আমাদের মা। সুতরাং তাদেরকে যারা হ্যারেস (উত্ত্যক্ত) করছে তারা একেকজন কালপ্রিট, তারা একেকজন কুলাঙ্গার। তাদেরকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

একইসাথে শিবিরের উপর এভাবে একেকটি পক্ষ ব্লেম দিয়ে আলটিমেটলি কুলাঙ্গারদেরকে দায়মুক্তি দিচ্ছে। এই দায়মুক্তি যারা দিচ্ছে তারা খারাপ কাজ করছে। এই কুলাঙ্গারদের যাতে শাস্তির আওতায় আনা যায় সেজন্য আমরা ‘ডিজিটাল বক্স’ চালুর কথা বলেছি। যেখানে সকলে অভিযোগ দিতে পারবে এবং সকল হয়রানির নিষ্পত্তি হবে।

নারীদের আবাসিক সংকটের উপর বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন সাদিকে কায়েম। তিনি বলেন, এটা খুবই অপ্রত্যাশিত যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪ বছর পার করলেও আমাদের বোনদের আবাসিক সংকট এখনো নিরসন করতে পারিনি। তাদেরকে বাইরে মেসে থাকতে হচ্ছে।

আমি মনে করি, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ সদিচ্ছার অভাব। তাই আমরা এই সংকট নিরসনে কাজ করতে চাই। আমাদের ছাত্র ভাইদের থেকে ছাত্রী বোনদের সমস্যা অনেক বেশি। তাই তাদেরকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সাদিক বলেন, আমাদের ব্যাপারে আরেকটি প্রোপাগান্ডা রয়েছে অন্য ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে। আমরা বলতে চাই, অন্য ধর্মাবলম্বীদের কাছেও আমাদের গ্রহণযোগ্যতা অনেক ভালো। তারা আমাদের সাথে কথা বলছে, আলাপ হচ্ছে।

আমি নিজেও ছোটবেলা থেকেই সকল ধর্মের বৈচিত্র্যের মধ্যেই বড় হয়েছি। আমি খাগড়াছড়িতে ছিলাম, সেখানে পাহাড়ি বন্ধু যারা চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা তাদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলছি, একসাথে স্কুলে গেছি। তাদের উৎসবে আমরা যেতাম, ঈদে তারা আমাদের বাসায় আসতো, তাদের বৈসাবি উৎসবে আমরা তাদের ওখানে যেতাম। বৈচিত্র্যের মধ্যে যে সৌন্দর্য সেটি ছোটবেলা থেকেই আমি দেখে এসেছি৷

শিক্ষার্থীরা কেন আপনাদের ভোট দিবে- এমন প্রশ্নের জবাবে এই শিবির নেতা বলেন, জুলাইয়ের সবচেয়ে ক্রুশিয়াল সময়ে আমরা কাজ করেছি। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী এক বছরে আমরা অসংখ্য কাজ করেছি, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাকে মাথায় নিয়ে অনেক কাজ করেছি। এই কাজ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পেয়েছি।

আমাদের নেতৃত্বের উপর তারা আস্থা রাখতে চায়। এই স্বতঃস্ফূর্ত রেসপন্স, শিক্ষার্থীবান্ধব আমাদের যে চিন্তা এসব তাদেরকে অনেক বেশি আকর্ষিত করছে, তাই তারা আমাদের খুঁজে নেবে বলে আমি আশা করি।

আগামীর বিশ্ববিদ্যালয় কেমন দেখতে চান- এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুনভাবে সংস্কারের লক্ষ্যে আমরা ৬৩ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা দিয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পরিবেশ, গবেষণা বরাদ্দ বৃদ্ধি, শিক্ষার মান, শিক্ষক মূল্যায়ন, শিক্ষক নিয়োগে মেধাকে গুরুত্ব দেওয়া, লাইব্রেরির সুবিধা বৃদ্ধি করা এবং সকল ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে একসাথে কাজ করতে চাই।

আমরা এমন আরও অনেকগুলো সমস্যা আইডেন্টিফাই করেছি, এগুলো সব সমাধান সম্ভব, শুধু প্রয়োজন নৈতিক সদিচ্ছা। আমি মনে করি আমাদের সেই সদিচ্ছা আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ঘাটতি তো থাকবেই, কিন্তু আমাদের অনেক অ্যালামনাই আছে তারা এসব কাজে সাহায্য করতে পারে।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। […]

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:১৪

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তারা পূর্বে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ডিভিএম এবং অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রি বাতিল করে তাদের বি.এস.সি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১৭৩১৮/২০২৫ মামলার রায়ে পৃথকভাবে ডিভিএম ও বি.এসসি এএইচ (অনার্স) ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হয় এবং স্বতন্ত্র কোর্সসমূহ সমান্তরালভাবে চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। রায়ের আলোকে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় পূর্বের ডিভিএম ডিগ্রি দাবি জানায়।

এ বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সৈকত হাসান বলেন, “আমাদের যখন কম্বাইন্ড ডিগ্রির আওতায় আনা হয়েছিল, তখন জানানো হয়েছিল যে সারা দেশে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রি বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি বাস্তবায়ন করা হবে।

কিন্তু বাস্তবে তা আর কার্যকর হয়নি। এখন হাইকোর্টের রায় আমাদের পূর্বের ডিগ্রি ডিভিএম-এ ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। যেহেতু ডিভিএম একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি, তাই আমরা আমাদের মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন অনুযায়ী ডিভিএম ডিগ্রি পুনঃবাস্তবায়ন চাই।”

এ সময় অপর আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ডিভিএম ডিসিপ্লিনে প্রত্যাবর্তনের পেছনে একাডেমিক ও পেশাগত কয়েকটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে ডিগ্রির স্বীকৃতি, পেশাগত নিবন্ধন ও উচ্চশিক্ষায় সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো ,ক্রেডিট সমন্বয় বা প্রশাসনিক রূপান্তরজনিত কারণে সেশন জট কিংবা একাডেমিক বিভ্রান্তি দূর করা, মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং পেশাগত পরিচয় ও কর্মজীবনের পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা।”

শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনকে আইনসম্মত ও একাডেমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও প্রশাসনিক সমাধান প্রত্যাশা করেছেন। আদালতের রায় যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের ডিভিএম ডিসিপ্লিনে পুনঃঅন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সদয় বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।