রাজধানীর সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের আবাসিক হল থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মেহেদী নামে শিবিরের এক কর্মী আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের আহ্বায়ক তামিম মাতুব্বর এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহসভাপতি মোতাহার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী আবাসিক হলে প্রবেশ করেন। পরে শিবিরের ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থীকে তাদের ব্যাগ ও ব্যক্তিগত মালামালসহ হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হল থেকে বের করে দেওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয় এবং ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখান থেকে একটি মিছিল বের করে মোহাম্মদপুর থানা ও ধানমন্ডি ২৭ নম্বর ক্রসিং অতিক্রম করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের নিরাপত্তাকর্মী খশিয়ার জানান, রাত ১২টার দিকে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ইনস্টিটিউটের সামনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিবিরের এক সদস্য দাবি করেন, হলের ভেতরেই তাদের মারধর করা হয়েছে এবং গভীর রাতে প্রায় ১৫ জনকে জোর করে হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
তবে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের আহ্বায়ক তামিম মাতুব্বর। তিনি বলেন, রোহান নামে এক ছাত্রলীগকর্মীকে হল থেকে বের করে দেওয়ার সময় শিবিরের কর্মীরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই ছাত্রলীগকর্মী সেখান থেকে চলে যান।
ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহসভাপতি মোতাহার হোসেন দাবি করেন, মঙ্গলবার সারাদিন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের ওপর একাধিক হামলা চালিয়েছে, যাতে তাদের কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের হলে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনা করছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর তারা সেখানে যান এবং তাদের হল থেকে বের করে দেন।
ঘটনার খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশের দুই পরিদর্শক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় তারা পরে সেখান থেকে চলে যান। বর্তমানে ইনস্টিটিউট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
তবে এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।