শেরপুর (বগুড়া)
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এ দুটি ঘটনাকে একই সূত্রে গেঁথে নতুন রাজনৈতিক রূপরেখা ও সতর্কবার্তা দিলো শেরপুর উপজেলা বিএনপি। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভাটি কেবল স্মৃতিরোমন্থনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং তা রূপ নেয় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উস্কানি ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে এক কঠিন হুঁশিয়ারিতে।
বুধবার সকাল ১০টায় শেরপুর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবলু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা শফিকুল আলম তোতা।
গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্বের মানসিকতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার
সভায় মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে পুঁজি করে একশ্রেণীর রাজনীতিবিদের অতি-উৎসাহী বক্তব্য ও ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবলু তাঁর বক্তব্যে বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মতো ২৪-এর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসও চিরস্মরণীয়। কিন্তু বিগত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যারা রাজপথে রক্ত দিয়েছে, সেই মানুষদের নম্রতাকে কেউ যেন দুর্বলতা মনে না করে। ‘জুলাই সনদ’-এর নাম ভাঙিয়ে কোনো রাজনৈতিক চক্রান্ত এ দেশের জনগণ বরদাশত করবে না।”
সম্প্রতি এনসিপি নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর বিভিন্ন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বাবলু সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের প্রিয় নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান ও ভাবি গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হলে তা শক্ত হাতে দমন করা হবে। পরবর্তীতে উত্তরবঙ্গে বা বগুড়া জেলায় নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী পা রাখলে রাজপথে ব্যারিকেড দিয়ে তাঁকে প্রতিহত করা হবে।”
শেরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু তাঁর বক্তব্যে ক্ষমতার দম্ভ ও ইতিহাস বিকৃতির পরিণতি নিয়ে এক সুচিন্তিত রাজনৈতিক থিওরি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “আন্দোলনে তরুণদের রক্ত ও ভূমিকা আমরা পূর্ণ শ্রদ্ধায় স্বীকার করি। কিন্তু একক কৃতিত্ব দাবি করে অন্যায্যভাবে ক্ষমতায় বসার কিংবা রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গের মানসিকতা কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ইতিহাস থেকে সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ইতিহাসকে খাটো করার কোনো চক্রান্ত দেশের সচেতন মানুষ মেনে নেবে না।”
শেখ পরিবারের পতন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মিন্টু আরও বলেন, “৭১-এর পর বাকশাল গঠন করে শেখ মুজিব এবং পরবর্তীতে ক্ষমতার মদমত্ততায় অন্ধ হয়ে শেখ হাসিনা যেভাবে নিজের পতন ডেকে এনেছেন, বর্তমানের অপপ্রচারকারী ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনকারীদের পরিণতিও একই হবে। আমাদের দল ও জাতীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো অপপ্রচার রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করতে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকতে হবে।”
নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ও ঐক্যের বার্তা
শেরপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশিদ আপেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় রাজনৈতিক সংহতি প্রকাশ করেন স্থানীয় জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃবৃন্দ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন:
বিএনপি নেতৃবৃন্দ: উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি পিয়ার হোসেন, আশরাফ উদ্দিন ভোলা, বিএনপি নেতা হেলালুজ্জামান হেলাল, মাহবুবুল আলম হিরু, জিএম মোস্তফা, মোয়াজ্জেম হোসেন, জাহিদুর ইসলাম টুলু, মোস্তাফিজুর রহমান নিলু, বদিউজ্জামান বদি, কায়কোবাদ ও আব্দুল ওহাব।
অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শেরপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আশরাফুদ্দৌলা মামুন, সোবাইদুল ইসলাম, সজিব এবং স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হাফিজুল আসিফ শাওনসহ অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও মোনাজাত
আলোচনা সভা শেষে ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী সকল বীর শহীদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন শেরপুর উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা রুহুল আমিন।