মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

জেলেদের ৩০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও বন কর্মকর্তা, টাকা ফেরত চেয়ে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের রাঙ্গাবালী রেঞ্জের মৌডুবি বিট কর্মকর্তা শোহেব খানের বিরুদ্ধে জেলেদের ৩০ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গতকাল সোমবার ভুঁইয়াকান্দা বাজারে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী বাদল হাওলাদার, মহসিন ভুঁইয়া, মনির তালুকদাসহ অর্ধশতাধিক জেলে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বন বিভাগ ইতোমধ্যে কর্মকর্তাকে বদলি করেছে বলে জানা গেছে।

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের রাঙ্গাবালী রেঞ্জের মৌডুবি বিট কর্মকর্তা শোহেব খানের বিরুদ্ধে জেলেদের ৩০ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গতকাল সোমবার ভুঁইয়াকান্দা বাজারে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী বাদল হাওলাদার, মহসিন ভুঁইয়া, মনির তালুকদাসহ অর্ধশতাধিক জেলে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বন বিভাগ ইতোমধ্যে কর্মকর্তাকে বদলি করেছে বলে জানা গেছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিট কর্মকর্তা চর হেয়ার, চর তুফানিয়া, চর তালুকদার, চর তালেব, চর বগলা, চর আশাবাড়িয়া, জাহাজমারা, চর তোফাজ্জেল, গ্যাপের চর, মৌডুবির ভাঙারখাল, কেউর হাওলা, কাজিকান্দাসহ নিজকাটা এলাকার নদী তীরবর্তী চরের অববাহিকায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ স্ট্রিপ বনায়ন (বেড়িবাঁধ বনাঞ্চল) ইজারা দিয়ে ঘুষ বাণিজ্য করেছেন। অর্ধ শতাধিক জেলের কাছে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। চর ও নদীর মোহনায় ইলিশ, কোরাল, চিংড়ি ও বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ ধরেন জীবিকা নির্বাহ করেন জেলেরা অথচ এই সাগরের জেগে উঠা চরগুলো লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে ইজারা দিয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন বিট কর্মকর্তা শোয়েব খান।

তারা বলেন, একটি চর দেওয়ার নামে অন্তত ২ থেকে ৫ জনের কাছে ঘুষ নিয়েছেন। স্থানীয় জেলে মহসীন ভুঁইয়ার কাছে দেড় লাখ, বাদল হাওলাদারের কাছে ১ লাখ ১০ হাজার, মিজানুর ভুঁইয়ার কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার, মনির তালুকদারের কাছে ১ লাখ ৩২ হাজার, কালাম ভুঁইয়ার কাছে ৬০ হাজার, নজরুল হাওলাদারের কাছে ৭০ হাজার, মোশাররফের (হাফেজকান্দা) কাছে আশারবাড়িয়ার চরের জন ২ লাখ ২০ হাজার, মোশারফ মাতব্বরের কাছে খালের জন ২৫ হাজার, ইলিয়ার পাটোয়ারির কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার, মহিবুল্লাহ ভুঁইয়ার কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য জেলেদের কাছে লাখ লাখ টাকা নিয়ে চর দিয়েছেন কর্মকর্তা।

মানববন্ধনে সামসুল আলম হাওলাদারের ছেলে শামীম হাওলাদার বলেন, বিট কর্মকর্তা শোয়েব খান ১ লক্ষ টাকা নিছে চর তালুকদার দিবে বইল্যা। সরকারি হিসাব তো আমরা বুজি না। উনি তো আমাদের ‘মদন’ বানাইয়া টাকা নিছে। একই চর দেখাইয়া একাধিক লোকের কাছে লাখ লাখ টাকা নেছে। গোপনে বন কর্মকর্তা ১ লাখ, দেড় লাখ, দুইলাখ এমনকি তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নেছে।

মানবন্ধনে আরেক জেলে বলেন, আমি সুদের উপর টাকা নিয়ে এসে ৬০ হাজার টাকা দিছি। যদি টাকা না দিই তাহলে বলে যে গাছ কাটার মামলা দিবে, বিষ দেওয়ার মামলা দিবে। বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে কায়দা করে উনি টাকাগুলো নিয়ে গেছে। টাকা না দিলে টোটালি ঢুকতে দিবে না চরে। আমরা সাধারণ মানুষ কি করতে পারি। এমনকি কাঁকড়া ধরতে গেলেও টাকা দিতে হয়।

মৌডুবির ৬ নং ইউনিয়নের ৭ ন ওয়ার্ডের মহসিন ভুঁইয়ার কাছে থেকে বিট কর্মকর্তা শোহেব খান নিয়েছেন মোট সাড়ে ৩ লাখ। প্রথমে দেড় লাখ পরে ২ লাখ। মহসিন ভুঁইয়া বলেন, আমরা মাছ ধরেই খাই। আমার কাছে টাকা নিয়েছে মোট সাড়ে ৩ লাখ বিট কর্মকর্তা শোহেব খান। চর তুফানিয়া দিবে বইলা টাকা নিছে প্রথমে দেড় লাখ পরে ২ লাখ। আমার জানা আছে একই চরের জন বাদল হাওলাদারের কাছেও টাকা নিছে। আমরা এখন চাই, আমাদের কাছে টাকা নিছে চর দিবে বইলা-দিতে পারে নাই। এখন টাকা ফেরত চাই। গতবছর একই কর্মকর্তা নিছে পৌঁনে ৩ লাখ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মৌডুবি বিট কর্মকর্তা শোহেব খান বলেন, যেসব চর যাকে দেওয়ার কথা ছিল তাদেরকে সেসব চর দেওয়া হয়েছে। উর্দ্ধতন কোনো কর্মকর্তাকে টাকা দেওয়ার কথা নাই। আর আপনারা যা খুশি করেন।

রাঙ্গাবালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, জেলেরা যদি কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে থাকেন তাহলে অন্যায় করেছেন। ঘুষ দেওয়া-নেওয়া সমান অপরাধ। বন বিভাগ তার অপরাধ জানার পর তাকে সরিয়ে দিয়েছে। আমার হাতে বিট কর্মকর্তার অনিয়মের অভিযোগ আসার পর আমি তাকে সরিয়ে দিই। টাকা যদি জেলেরা পায় তাহলে তার কাছে ব্যক্তিগতভাবে আদায় করবে আর বন আইনে যে শাস্তির বিধান রয়েছে সেটাই করা হবে।

এরআগে একই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপকূলীয় অঞ্চলের (বরিশাল) বন সরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করীম বলেন, আমার কাছে টাকা নেওয়ার কোনো অভিযোগ আসেনি। আর আমাকে সে টাকা দেয় বলছেন- আমাকে সেই কর্মকর্তা কি চিনে? আমি ওই ধরনের কোনো কর্মকর্তাকে চিনি না।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।

সারাদেশ

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি […]

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতীম আর ফেরেনি। পরিবারের অজান্তে সে তার মায়ের একটি আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তার মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের নিখোঁজের তথ্য জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

এর মধ্যে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরের জঙ্গলে পাঞ্জাবি পরা অপ্রতীমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

পরিবারের দাবি, মায়ের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত করছে পুলিশ।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা অনেকটা নিশ্চিত।’ আটক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপ্রতীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।