বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

জেলেদের ৩০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও বন কর্মকর্তা, টাকা ফেরত চেয়ে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের রাঙ্গাবালী রেঞ্জের মৌডুবি বিট কর্মকর্তা শোহেব খানের বিরুদ্ধে জেলেদের ৩০ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গতকাল সোমবার ভুঁইয়াকান্দা বাজারে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী বাদল হাওলাদার, মহসিন ভুঁইয়া, মনির তালুকদাসহ অর্ধশতাধিক জেলে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বন বিভাগ ইতোমধ্যে কর্মকর্তাকে বদলি করেছে বলে জানা গেছে।

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের রাঙ্গাবালী রেঞ্জের মৌডুবি বিট কর্মকর্তা শোহেব খানের বিরুদ্ধে জেলেদের ৩০ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গতকাল সোমবার ভুঁইয়াকান্দা বাজারে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী বাদল হাওলাদার, মহসিন ভুঁইয়া, মনির তালুকদাসহ অর্ধশতাধিক জেলে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বন বিভাগ ইতোমধ্যে কর্মকর্তাকে বদলি করেছে বলে জানা গেছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিট কর্মকর্তা চর হেয়ার, চর তুফানিয়া, চর তালুকদার, চর তালেব, চর বগলা, চর আশাবাড়িয়া, জাহাজমারা, চর তোফাজ্জেল, গ্যাপের চর, মৌডুবির ভাঙারখাল, কেউর হাওলা, কাজিকান্দাসহ নিজকাটা এলাকার নদী তীরবর্তী চরের অববাহিকায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ স্ট্রিপ বনায়ন (বেড়িবাঁধ বনাঞ্চল) ইজারা দিয়ে ঘুষ বাণিজ্য করেছেন। অর্ধ শতাধিক জেলের কাছে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। চর ও নদীর মোহনায় ইলিশ, কোরাল, চিংড়ি ও বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ ধরেন জীবিকা নির্বাহ করেন জেলেরা অথচ এই সাগরের জেগে উঠা চরগুলো লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে ইজারা দিয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন বিট কর্মকর্তা শোয়েব খান।

তারা বলেন, একটি চর দেওয়ার নামে অন্তত ২ থেকে ৫ জনের কাছে ঘুষ নিয়েছেন। স্থানীয় জেলে মহসীন ভুঁইয়ার কাছে দেড় লাখ, বাদল হাওলাদারের কাছে ১ লাখ ১০ হাজার, মিজানুর ভুঁইয়ার কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার, মনির তালুকদারের কাছে ১ লাখ ৩২ হাজার, কালাম ভুঁইয়ার কাছে ৬০ হাজার, নজরুল হাওলাদারের কাছে ৭০ হাজার, মোশাররফের (হাফেজকান্দা) কাছে আশারবাড়িয়ার চরের জন ২ লাখ ২০ হাজার, মোশারফ মাতব্বরের কাছে খালের জন ২৫ হাজার, ইলিয়ার পাটোয়ারির কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার, মহিবুল্লাহ ভুঁইয়ার কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য জেলেদের কাছে লাখ লাখ টাকা নিয়ে চর দিয়েছেন কর্মকর্তা।

মানববন্ধনে সামসুল আলম হাওলাদারের ছেলে শামীম হাওলাদার বলেন, বিট কর্মকর্তা শোয়েব খান ১ লক্ষ টাকা নিছে চর তালুকদার দিবে বইল্যা। সরকারি হিসাব তো আমরা বুজি না। উনি তো আমাদের ‘মদন’ বানাইয়া টাকা নিছে। একই চর দেখাইয়া একাধিক লোকের কাছে লাখ লাখ টাকা নেছে। গোপনে বন কর্মকর্তা ১ লাখ, দেড় লাখ, দুইলাখ এমনকি তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নেছে।

মানবন্ধনে আরেক জেলে বলেন, আমি সুদের উপর টাকা নিয়ে এসে ৬০ হাজার টাকা দিছি। যদি টাকা না দিই তাহলে বলে যে গাছ কাটার মামলা দিবে, বিষ দেওয়ার মামলা দিবে। বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে কায়দা করে উনি টাকাগুলো নিয়ে গেছে। টাকা না দিলে টোটালি ঢুকতে দিবে না চরে। আমরা সাধারণ মানুষ কি করতে পারি। এমনকি কাঁকড়া ধরতে গেলেও টাকা দিতে হয়।

মৌডুবির ৬ নং ইউনিয়নের ৭ ন ওয়ার্ডের মহসিন ভুঁইয়ার কাছে থেকে বিট কর্মকর্তা শোহেব খান নিয়েছেন মোট সাড়ে ৩ লাখ। প্রথমে দেড় লাখ পরে ২ লাখ। মহসিন ভুঁইয়া বলেন, আমরা মাছ ধরেই খাই। আমার কাছে টাকা নিয়েছে মোট সাড়ে ৩ লাখ বিট কর্মকর্তা শোহেব খান। চর তুফানিয়া দিবে বইলা টাকা নিছে প্রথমে দেড় লাখ পরে ২ লাখ। আমার জানা আছে একই চরের জন বাদল হাওলাদারের কাছেও টাকা নিছে। আমরা এখন চাই, আমাদের কাছে টাকা নিছে চর দিবে বইলা-দিতে পারে নাই। এখন টাকা ফেরত চাই। গতবছর একই কর্মকর্তা নিছে পৌঁনে ৩ লাখ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মৌডুবি বিট কর্মকর্তা শোহেব খান বলেন, যেসব চর যাকে দেওয়ার কথা ছিল তাদেরকে সেসব চর দেওয়া হয়েছে। উর্দ্ধতন কোনো কর্মকর্তাকে টাকা দেওয়ার কথা নাই। আর আপনারা যা খুশি করেন।

রাঙ্গাবালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, জেলেরা যদি কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে থাকেন তাহলে অন্যায় করেছেন। ঘুষ দেওয়া-নেওয়া সমান অপরাধ। বন বিভাগ তার অপরাধ জানার পর তাকে সরিয়ে দিয়েছে। আমার হাতে বিট কর্মকর্তার অনিয়মের অভিযোগ আসার পর আমি তাকে সরিয়ে দিই। টাকা যদি জেলেরা পায় তাহলে তার কাছে ব্যক্তিগতভাবে আদায় করবে আর বন আইনে যে শাস্তির বিধান রয়েছে সেটাই করা হবে।

এরআগে একই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপকূলীয় অঞ্চলের (বরিশাল) বন সরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করীম বলেন, আমার কাছে টাকা নেওয়ার কোনো অভিযোগ আসেনি। আর আমাকে সে টাকা দেয় বলছেন- আমাকে সেই কর্মকর্তা কি চিনে? আমি ওই ধরনের কোনো কর্মকর্তাকে চিনি না।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।