সাজেদুল ইসলাম , ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ
যমজ দুই বোনের সাথে যমজ দুই ভাইয়ের বিয়ে শুনতেই অনেকটা অবিশ্বাসের মতো। নিজ চোখে এমন বিয়ে দেখা অনেকেই স্বপ্ন দেখার মতো। সেই স্বপ্নেন মতোই এমনি এক ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জমজ দুই বোনের সাথে লক্ষীপুরের সদর উপজেলার যমজ দুই ভাইয়ের বিয়ে মধ্যে দিয়ে।
বুধবার (১৭ জুন) উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের যমজ দুই মেয়ের সঙ্গে লক্ষীপুরের উপজেলার রাজিবপুর গ্রামের মো. নুরুল আলমের যমজ দুই ছেলের আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
জানা গেছে, জমজ দুই ছেলে মো. আব্দুর রাজ্জাক ও মো. আব্দুল জব্বার দুবাই প্রবাসী। মো. আব্দুর রাজ্জাকের সাথে সুমাইয়া আক্তারের এবং মো. আব্দুল জব্বারের সাথে সোনিয়া আক্তারের তিন লক্ষ করে ছয় লক্ষ টাকার দেনমোহরে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
তাদের বিয়ের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং যমজ নবদম্পতিদের এক নজর দেখতে বিয়ে বাড়িতে ভিড় জমায় বিভিন্ন এলাকার লোকজন।
স্থানীয়রা জানান, সাধারণত এই রকম বিয়ে সচরাচর দেখা যায় না। তাই বিয়ে দেখতে অনেক লোক এসেছে। কেউ দাওয়াত পেয়ে আবার কেউ দাওয়াত না পেয়েও একনজর তাদের দেখতে এসেছে। তবে বিষয়টি খুবই ভালো লেগেছে। অনেকে দুই নবদম্পতি যাতে সুখী হয়, সে জন্য দোয়া করছেন।
জমজ দুই ভাই বলেন- আমরা দুই ভাই লেখাপড়া শেষ করে প্রবাসে থাকি। আমরা ছোটোবেলা থেকেই একসাথে বড়ো হয়েছি। আমাদের দুই ভাইয়ের ইচ্ছে ছিল আমরা যমজ দুই বোনকে বিয়ে করবো। তার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপ, মেসেঞ্জারে তথ্য আদান-প্রদান মাধ্যমে দুই জমজ বোনের সন্ধান পাই।
আলহামদুলিল্লাহ, তারা আমাদের বিয়ে করতে সম্মতি দিয়েছে। আমরা দুই জমজ ভাই দুই যমজ বোনকে বিয়ে করতে পেরে খুবই আনন্দিত। আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন।
যমজ দুই মেয়ের চাচা রফিকুল ইসলাম মনি জানান, যমজ দুই ভাতিজির জন্য যমজ দুই ছেলের সন্ধান পাওয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এলাকার এক শিক্ষকের মাধ্যমে। ভাতিজি দু’জনই এইচএসসি পরীক্ষা দেবে এবং ছেলেরাও দুইজন লেখাপড়া শেষ করে প্রবাসে চাকরি করছে। আল্লাহ তাআলা তাদের জুটি মিলিয়ে দিয়েছে। আমরাও অত্যন্ত খুশি।
যমজ দুই ছেলের পিতা মো.নুরুল আলম জানান, যমজ দুই ছেলের জন্য যমজ দুই মেয়েকে পুত্রবধূ হিসেবে তাদেরকে পেয়ে আমি অনেক আনন্দিত। আমি আমার সন্তান ও নবদম্পতিদের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই।