পুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পশ্চিম বিভাগের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ড. রুহুল আমিন সরকারের নেতৃত্বে রাজধানীর রাজারবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন মো. শাফায়াত হোসেন শেখ ও এনামুল হক আকবর।
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা বাংলাদেশ পুলিশের চলমান নিয়োগ কার্যক্রমে বিভিন্ন ধাপে বাদ পড়া চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করতেন। পরে নিজেদের প্রভাবশালী ব্যক্তি বা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করে পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দিতেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, চাকরি নিশ্চিত করার নামে তারা প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করতেন। ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জনের জন্য অগ্রিম অর্থ গ্রহণের আগে ব্যাংকের স্বাক্ষরিত চেক জামানত হিসেবেও দিতেন।
এক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অভিযুক্তরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য শাফায়াত হোসেন নিজের স্বাক্ষর করা ৫ লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক ওই প্রার্থীর হাতে তুলে দেন। পরে চাকরির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কথা বলে তাকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
পূর্ব তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডির একটি দল রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল এলাকায় নজরদারি চালায়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা চাকরিপ্রার্থীকে নিয়ে তথাকথিত মেডিকেল পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করলে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং চাকরিপ্রার্থীকে দেওয়া ৫ লাখ টাকার স্বাক্ষরিত ব্যাংক চেক জব্দ করা হয়।
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে শাফায়াত হোসেন শেখের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি, প্রতারণা ও হত্যা-সংক্রান্ত তিনটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া তিনি নিজেকে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট হিসেবে পরিচয় দিলেও এ দাবির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। প্রতারণা চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং অন্য কোনো ভুক্তভোগী আছেন কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।