বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের অন্যতম সম্ভাবনাময় বৈশ্বিক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার ভিত্তি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তৈরি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর গুলশানে পুলিশ প্লাজায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী এক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ড. তিতুমীর বলেন, একসময় ভিয়েতনাম ছিল উন্নয়ন ও বিনিয়োগের সাফল্যের প্রতীক, বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া সেই অবস্থানে রয়েছে। ধারাবাহিক নীতি সহায়তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশও আগামী দিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জনগণের আস্থা সবচেয়ে বড় শক্তি। অতীতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে বাংলাদেশ যেমন ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তেমনি বাস্তবমুখী ও দেশোপযোগী নীতি গ্রহণের মাধ্যমে বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।
বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের পাঁচটি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, ব্যবসা পরিচালনায় অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সহজ করা, নতুন ও ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পে অর্থায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসে এবারই প্রথম পাঁচ বছরের করনীতি রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনায় জটিলতা ও লালফিতার দৌরাত্ম্য কমিয়ে আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিল্প খাতকে গতিশীল করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন কর্মসূচির ঘোষণার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এবার সহায়তা প্রদানে কর্মদক্ষতা ও ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে বলে জানান।
জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, টেকসই বিনিয়োগের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ, গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি, কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।
পরিবহন অবকাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে কার্যকর রেলসংযোগ এবং সমন্বিত বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে কৃষি ও শিল্পপণ্য পরিবহন ব্যয় কমবে এবং অর্থনীতির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।