দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো—বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এর মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য ও বিরোধকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, দলটি মনে করছে বড় দলগুলোর মধ্যে সংঘাত বা অস্থিরতা তৈরি হলে সেই পরিস্থিতির সুযোগে তারা আবারও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
বর্তমানে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষিদ্ধ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ও কর্মসূচির খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
সম্প্রতি নোয়াখালী, কুমিল্লা, ঝিনাইদহ, ময়মনসিংহ, গোপালগঞ্জ, পটুয়াখালী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংক্ষিপ্ত মিছিলের ঘটনা সামনে এসেছে।
সূত্রগুলোর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই আওয়ামী লীগ বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। পরে দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা দেখলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের ফলে সেই সুযোগও হারায়। নির্বাচনের পর নতুন সরকার তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ দেবে—এমন প্রত্যাশাও পূরণ হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম মনে করেন, জুলাই আন্দোলনের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি হলে আওয়ামী লীগসহ অন্য কোনো শক্তি সেই সুযোগ নিতে পারে। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতা প্রয়োজন।
নির্বাচনের পর সংবিধান সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে মতপার্থক্য দেখা গেছে। যদিও বিভিন্ন বিষয়ে তাদের অবস্থান ভিন্ন, তবুও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিভাজন আরও গভীর হলে তা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুক্তিনির্ভর ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চাই দেশের জন্য কল্যাণকর।