তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের জন্য আরও একটি ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বুধবার জাতীয় সংসদে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের লিখিত জবাবে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্তরগুলো উপস্থাপন করা হয়।
এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি সমীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ১১০ কিলোমিটার ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কার এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের জন্য নতুন একটি ব্যারেজ নির্মাণের কারিগরি ও আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং টিকাদান ব্যবস্থায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, হামের টিকাদানের আওতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার আওতায় আনতে বিশেষ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুলুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে। পাশাপাশি ২০৩৫ সালের মধ্যে এ হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মহাসড়কগুলোতে ধাপে ধাপে এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ, স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা চালু, সড়ক নিরাপত্তা জোরদার, ঢাকার ওপর চাপ কমাতে রিং রোড ও রেডিয়াল নেটওয়ার্ক নির্মাণ এবং যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
তিনি জানান, নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইও চলছে।
রেল খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধান প্রধান রুটে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রেলসেবা ধীরে ধীরে দেশের সব জেলা ও প্রধান শহরে সম্প্রসারণ এবং আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।
ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক ও শ্রম কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিভাগীয় শহরগুলোতে ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে পানি শোধনাগার ও বিকল্প জলাধার নির্মাণসহ একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মোট ১৭ হাজার ৮৭০টি অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে ১১ হাজার ৫০১টি পদে জনবল রয়েছে এবং ৬ হাজার ৩৫৯টি পদ শূন্য রয়েছে।
গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে হজের ব্যয় আরও কমানোর লক্ষ্যে সরকার রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণ করবে। ২০২৬ সালে হজের খরচ আগের বছরের তুলনায় ১১ হাজার ৭৫ টাকা কমানো হয়েছে এবং ২০২৭ সালের জন্যও প্যাকেজ মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হবে।