বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মহিপুুরে হিন্দু সম্প্রদায় ও আওয়ামীলীগের প্রায় দুই শতাধিক মানুষের বিএনপিতে যোগদান

সাইফুল ইসলাম, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)প্রতিনিধি পটুয়াখালীর মহিপুরে বৃহত্তম মৎস্য বন্দরে মহিপুর মৎস্য ব্যবসায়ীদের সংগঠন মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতির যৌথ আয়োজনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  এ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন । গতকাল সোমবার (২২ ডিসেম্বর) […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৮:৩৫

সাইফুল ইসলাম, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর মহিপুরে বৃহত্তম মৎস্য বন্দরে মহিপুর মৎস্য ব্যবসায়ীদের সংগঠন মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতির যৌথ আয়োজনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

এ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন ।

গতকাল সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাত ৭.০০ টার সময় মহিপুর মৎস্য বন্দরের গাজী মার্কেটে এ মতবিনিময় সভা ও বিএনপিতে যোগদান অনুষ্ঠান পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলোয়াত পাঠ করেন, বিএনপি’র থানা ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোঃ শহিদুল ইসলাম। 

এসময় প্রধান অতিথি এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন,উন্নয়ন কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির নয় যা সবার।মহিপুরের এই বৃহত্তম মৎস্য বন্দরে আড়ৎ মালিক, আটশত শ্রমিক, অসংখ্য মাঝি ও জেলেরা এ পেশায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। যদি এ মৎস্য বন্দরটি কিছু দিন বন্ধ থাকে বা এই খাল ভরাট হয়ে যায় তবে শ্রমিকদের আয় রোজগার হবেনা, কর্মসংস্থান থাকবে না। এজন্য ক্ষতি বিএনপি’র নয় অন্যান্য সকল দলের। সুতরাং উন্নয়নের স্বার্থে সবাই কে এক সাথে কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, কোনো দল বা মার্কায় ভোট দিলে বেহেস্ত বা হিন্দুদের মতে স্বর্গে যাওয়া যায় না। একমাত্র আল্লাহ্ তায়ালা বা হিন্দুদের মতে বিধাতা যার যার কর্মের ফল অনুযায়ী বেহেস্ত – দোযখ নির্ধারণ করবেন। তিনি বিএনপি’র দলীয় নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্য দেশনায়ক তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনার বিষয়ে বলেন, এই মৎস্য বন্দরে ব্যবসায়ীদের বিএনপি’র কাহারো দ্বারা যদি কোনো ধরনের ক্ষতি হয় তাহলে বিএনপির সেই নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে । তিনি আরো বলেন, যারা আজ থেকে বিএনপি পরিবারে যোগদান করেছেন তাদের প্রতি শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই। মৎস্য আড়ৎ মালিক, শ্রমিক,ব্যবসায়ী, হিন্দু সম্প্রদায় ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ আপনাদের সবার বিবেক, বুদ্ধি দিয়ে উন্নয়নের জন্য আমাদের একবার সুযোগ করে দেন ইনশাল্লাহ্ আমরাও আপনাদের মর্যাদা সমুন্নত রাখবো। 

কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার বলেন, আজকে এই মৎস্য মালিক শ্রমিক মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও আওয়ামীলীগ থেকে যারা বিএনপি পরিবারে যোগদান করেছেন তাদের সবাই কে কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই। 

মহিপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো:ফজলু গাজী বলেন, মহিপুর বাজার ও মনোহরপুর গ্রামে প্রায় এক হাজার দুই শত হিন্দু ভোটার আছে তার মধ্যে একহাজার ভোট কাষ্ট হলে আমরা ধানের শীষ প্রতীকে শতভাগ ভোট পাবো নেতা আমি এই আশ্বাস আপনাকে দিলাম। 

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার, মহিপুর থানা বিএনপি’র সভাপতি আ: জলিল হাওলাদার, কলাপাড়া পৌর বিএনপি’র সভাপতি গাজী মো: ফারুক, মহিপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো: ফজলু গাজী, কলাপাড়া পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সি, মহিপুর থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শাজাহান পারভেজ, মহিপুর সদর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মিজানুর রহমান হাওলাদার, মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা, মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস, মহিপুর মৎস্য শ্রমিক হ্যান্ডেলিং সমিতির সভাপতি আ: সালাম সরদার। 

এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কলাপাড়া পৌর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল তালুকদার,মহিপুর থানা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইউসুফ হাওলাদার, থানা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ী গাজী মো:মজনু, থানা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতি, মোঃ ইউসুফ হাওলাদার বাদল, মহিপুর এস আর ও এস বিএস লি: সভাপতি মো:সাইফুল ইসলাম সোহাগ, মহিপুর সদর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সজীব হাওলাদার সহ মহিপুর থানা বিএনপি’র এবং ইউনিয়ন বিএনপি’র সকল পর্যায়ের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ। 

এ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে মহিপুর বাজার হিন্দু সম্প্রদায় থেকে কেন্দ্রীয় মন্দিরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সৎসঙ্গ মন্দিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ প্রায় ৫০ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক ও আওয়ামীলীগের দুই শতাধিক মানুষ আলহাজ্ব এবিএম মোশারফ হোসেনের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। তাদের মধ্যে অন্যতম কৃষ্ণ কর্মকার, মিন্টু দে, নির্মলশীল, সঞ্জয় দে,সুমন দাস, বাবুল দাস, সুনিল শীল, উত্তম হালদার প্রমুখ। 

এছাড়া আরো যোগদান করেন মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো:জাহিদুল ইসলাম সেলিম, ইব্রাহিম খান, সিরাজুল ইসলাম , সোবহান হাওলাদার, মালেক খলিফা ,জাকির হোসেন দুলাল, সন্ধ্যা রানী, মিনারা বেগম, ছকিনা বেগম, আওয়ামীলীগ সেলিম হাওলাদার, মিজান, মোস্তফা সরদার, আলম সহ আরো অনেক নেতাকর্মী ।

এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন, মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাজী আ:সালাম হাওলাদার। 

এ মতবিনিময় সভাটি সন্ঞ্চালনায় ছিলেন, মিজানুর রহমান রিপন ও আইয়ুব আকন ফিরোজ। 

পরিশেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও আরোগ্যলাভের জন্য দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।