ভাঙনকবলিত এলাকা হওয়ায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা-সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীতে বালুমহালের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে প্রশাসন। তবে একই নদীতে প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
নদী থেকে উত্তোলিত বালু নৌযানে করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালাইয়া মোহনা ও চন্দ্রদ্বীপ খেয়াঘাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন স্থানে একাধিক ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন চলছে। বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, বাউফল পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবিরের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে তারা এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিমদী লঞ্চঘাট এলাকায় ডুবা বালুমহাল ইজারার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও তেঁতুলিয়া নদীর বাউফল অংশ ভাঙনপ্রবণ হওয়ায় সেখানে ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর বিভিন্ন স্থানে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে ভাসমান বাল্কে মজুত করা হচ্ছে। কাজের তদারকিতে থাকা তোফাজ্জল হোসেন নামের এক ব্যক্তি বলেন, “বালুমহালের দায়িত্বে রয়েছেন হুমায়ুন কবির। তাঁর নির্দেশেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের নদীভাঙনে চরওয়াডেল, বাতির খাল, নিমদী, ধানদী ও বড়ডালিমা এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে ৭১ নম্বর নিমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও জনবসতি নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।
ভুক্তভোগী ইউনুস চৌধুরী বলেন, “নদীভাঙনে ইতোমধ্যে আমাদের ঘরবাড়ি, মসজিদ ও শত শত একর জমি হারিয়ে গেছে। প্রশাসন যেখানে ইজারা বন্ধ রেখেছে, সেখানে বালু উত্তোলন পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে।”
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তাঁর ছেলে এবং বাউফল পৌরসভা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ইমাম হোসেন দাবি করেন, গত বছরের ইজারার মেয়াদ ৩০ জুন পর্যন্ত থাকায় তারা বৈধভাবেই বালু উত্তোলন করেছেন।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পটুয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, “তেঁতুলিয়া নদীর বাউফল অংশ অত্যন্ত ভাঙনপ্রবণ। এ এলাকায় বালু উত্তোলন করলে নদীভাঙনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।”
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, “ভাঙনকবলিত হওয়ায় তেঁতুলিয়া নদীর ওই অংশে কোনো বালুমহালের ইজারা দেওয়া হয়নি। কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”