নাটোরের গুরুদাসপুরে মনসা পূজার অনুষ্ঠানে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূ স্বামীর বিরুদ্ধে তাঁর মা ও স্বজনদের মারধরের অভিযোগ তুলেছেন । এ ঘটনায় গুরুদাসপুর থানায় ভুক্তভোগী স্ত্রী শিউলি রানী দাস (৩০) বাদী হয়ে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
থানায় লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি বুধবার দুপুরে গুরুদাসপুর কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবে ভুক্তভুগিরা নির্যাতনের বিচার চেয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী শিউলি রানী দাস বলেন, তাঁর স্বামী দুলাল দাস, শাশুড়ি শংকরি রানী দাস ও ননদ বুনু দাস দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বাবার বাড়ির সম্পত্তির অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। সম্পত্তি দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী দুলাল দাস প্রায় তাঁর স্ত্রীকে মারধর ও পাশবিক নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে সংসারে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো।
অভিযোগে তিনি আরও বলেন , গত ৯ জুলাই থেকে স্বামীর বাড়িতে পাঁচ দিনব্যাপী মনসা পূজার আয়োজন করা হয়। যার ব্যয়ভার বহন করেন শিউলির বাবা-মা। পূজার শেষ দিন ১৪ জুলাই দুপুরে পারিবারিক এক আলোচনার সময় শিউলির বোনকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন তাঁর স্বামী।
এতে শিউলির মা সন্ধ্যা রানী দাস প্রতিবাদ করলে তাঁকে থাপ্পড় মারা হয়। মায়ের থাপ্পরের প্রতিবাদ করলে দুলাল তাঁর স্ত্রী, শাশুড়ি, শ্যালিকা কে কাঠের বাটাম দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। বাদ যায়নি ছোট শিশু বাচ্চাও। পরে তাঁদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ব্যাপারে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনজুরুল আলম বলেন, এবিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত দুলাল দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।