ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর ধামইরহাটে আমিনা খাতুন (৮) নামের এক শিক্ষার্থীকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ ও হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল চারটার দিকে উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বৈদ্যবাটি সুন্দরী বিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে করে ওই এলাকায় স্থানীয় এবং অভিভাবকদের মধ্যে একরকম আতঙ্ক লক্ষ্য করা গেছে।
শিক্ষার্থী আমিনা জাহানপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিকন্দ খাস গ্রামের মৃত আমিনুল ইসলামের মেয়ে। সে ৪৮ নং বিকন্দখাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী। ঘটনার দিন ওই দুষ্কৃতকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাকে এখনো আটক করতে পারেনি ধামইরহাট থানা পুলিশ।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা বলেন, দুষ্কৃতকারীরা ধর্ষণ অথবা হত্যার উদ্দেশ্যে ওই শিশুকে অপহরণ করতে পারে। অথবা পারিবারিক কোন দ্বন্দ্বের কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে অভিযোগ তোলা হয়। তবে এমন ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, এ কারণে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিও জানানো হয়।
শিক্ষার্থীর দাদি হালিমা বলেন, ঘটনার দিন (শিক্ষার্থী) নাতনীকে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে আনা হয়েছে। এখন সে দাদার বাড়িতে সুস্থ অবস্থায় আছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বাবা আমিনুল ইসলাম প্রায় এক বছর আগে হার্টের অসুস্থতা জনিত কারণে প্যারালাইসড হয়ে মৃত্যুবরণ করে। এরপর এক মাসের মাথায় তার স্ত্রী শারমিন আক্তার পত্নীতলা উপজেলায় অন্য একটি ছেলেকে দ্বিতীয় বিয়ে করে।
এরপর থেকে ওই শিক্ষার্থী দাদার বাড়ি থেকে পড়াশোনা করত। কিন্তু গত বিশ দিন আগে পার্শ্ববর্তী এলাকায় নানার বাড়ি বর্থাবাঁশবাড়ি গ্রামে বেড়াতে যায়। আজ বুধবার নানার বাড়ি থেকে দাদার বাড়িতে আসার কথা ছিল। কিন্তু তার দুদিন আগেই এ দূর্ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থী আমিনার সঙ্গে কথা হলে সে বলে, নানার বাড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সময়, পাশের একটি দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কালো এবং মোটা দেখতে এক ব্যক্তি দোকান থেকে তাকে ললিপপ কিনে দেয়।
সে আরও বলে, ওই লোকটি কোলে নিয়ে একটি সিএনজিতে ওঠায়। এবং ধারালো ছুরির ভয় দেখিয়ে হাত পা বেঁধে মুখে টেপ বেঁধে একটা জঙ্গলে নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে পালানোর সময় অনেকগুলো লোক এসে তাকে বাঁচাতে সাহায্য করে।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান বলেন, চকলেট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে এক যুবক ওই শিক্ষার্থীকে একটি সিএনজিতে করে সুন্দরী বিল এলাকার জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার সময়, জমির আইলে পা পিছলে ওই যুবক পড়ে যায়। এসময় ভাগ্যক্রমে ওই শিশুটি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং স্থানীয়রা তাকে দেখে উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেয়।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার দিন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।