মাসুম হোসেন অন্তু, (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সুমি খাতুন (২৪) নামের এক গৃহবধূকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মেরাজ উদ্দিন (৩০) নামের মাদকাসক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মেরাজ পলাতক রয়েছে, তার মা ও দুই বোনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ৯টায় শাহজাদপুর পৌর শহরের পুকুরপাড় মহল্লায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মেরাজ ওই মহল্লার চা বিক্রেতা মো: আবুল কাশেমের ছেলে। নিহত গৃহবধূ সুমি খাতুন উপজেলার নড়িনা ইউনিয়নের কাংলাকান্দা গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মদের মেয়ে।
জানা যায়, মেরাজ উদ্দিন ও সুমি খাতুনের সাড়ে ৩ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল, তাদের ঘরে ২ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মেরাজ মাদকাসক্ত ছিল বলে দাবি করছে প্রতিবেশী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানার উপ পরিদর্শক মোঃ জাহিদ ও রফিকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ হাফিজুর রহমান ও থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম।
নিহত সুমি খাতুনের মা অভিযোগ করে বলেন, মেরাজ যৌতুকের দাবিতে ও তুচ্ছ ঘটনায় প্রায়ই সুমিকে অমানুষিক নির্যাতন করতো। এই কাজে সহযোগিতা করতো তার মা।
ঘটনার দিন সকালে সুমির অসুস্থতার খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি সুমির নিথর দেহ, মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। পরে মেরাজ হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন স্থান থেকে ঘুরিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে।
এই ফাঁকে তারা হত্যার আলামত ও বাড়ির বিভিন্ন স্থানের রক্ত পরিষ্কার করে। এসময় তিনি তার মেয়ের মৃত্যুর পেছনে মেয়ে জামাই মেরাজ জড়িত বলে অভিযোগ করেন।
এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, স্ত্রীকে হত্যার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। সুরতহালে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। স্বামী পলাতক রয়েছে, তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার মা ও ২ বোনকে আটক করা হয়েছে।
নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এই ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।