বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

বড়লেখায় ইউপি নির্বাচন ঘিরে বিএনপিতে অর্ধশতাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী, ৯ ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা

মাহিনুর ইসলাম মাহিন, বড়লেখা(মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তফসিল ঘোষণার আগেই জমে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ব্যাপক তৎপরতায় নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। সবচেয়ে বেশি সরব বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে অর্ধশতাধিক নেতা মাঠে সক্রিয় থাকায় ইউনিয়নভিত্তিক প্রতিযোগিতাও বেশ তীব্র হয়ে উঠেছে। […]

বড়লেখায় ইউপি নির্বাচন ঘিরে বিএনপিতে অর্ধশতাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী, ৯ ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৮ জুলাই ২০২৬, ২১:৫১

মাহিনুর ইসলাম মাহিন, বড়লেখা(মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তফসিল ঘোষণার আগেই জমে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ব্যাপক তৎপরতায় নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।

সবচেয়ে বেশি সরব বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে অর্ধশতাধিক নেতা মাঠে সক্রিয় থাকায় ইউনিয়নভিত্তিক প্রতিযোগিতাও বেশ তীব্র হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে ৯টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে সাংগঠনিক ও গণসংযোগ কার্যক্রমে এগিয়ে রয়েছে। ফলে তফসিল ঘোষণার আগেই বড়লেখার স্থানীয় রাজনীতিতে নির্বাচনী আবহ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি এখনো কোনো ইউনিয়নে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় হাইকমান্ডের নজর কাড়তে এবং স্থানীয় ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

নিয়মিত মতবিনিময় সভা, উঠান বৈঠক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, ব্যক্তিগত যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন তাঁরা। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা জোরদার করেছেন।

অন্যদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য সংসদীয় প্রার্থী ঘোষণার পরপরই বড়লেখার ৯টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী। ঘোষিত প্রার্থীরা পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমও জোরদার করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণা করায় মাঠ গোছাতে অন্য দলগুলোর তুলনায় কিছুটা এগিয়ে রয়েছে জামায়াত।

বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে বর্ণি ইউনিয়নে আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি লোকমান উদ্দিন বায়েছ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুজ্জামান সরওয়ার, সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন, ফ্রান্সপ্রবাসী খায়রুল ইসলাম এবং ইতালিপ্রবাসী সাবেক ছাত্রদল নেতা ছাব্বির আহমদ।

দাসেরবাজার ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রহিম উদ্দিন নজরুল, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন বাহার এবং অর্থ সম্পাদক কলিম উদ্দিন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিছবাউল হক মিনু এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা কাউসার আহমদ নির্বাচনী প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন।

উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হালিম, সহসভাপতি মো. তাজ উদ্দিন এবং পেশাজীবী প্রতিনিধি, ব্যাংকার ও সাংবাদিক হাসান শামীমের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আহমদ, সাবেক আহ্বায়ক আবুল আহমদ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিছ আহমদ দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

বড়লেখা সদর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মামুন, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল গনি, বর্তমান সভাপতি শাহজাহান আহমদ চৌধুরী, সামাজিক সংগঠক আব্দুর রহমান শাহীন এবং উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ আহমদ।

তালিমপুর ইউনিয়নে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম আয়জুল, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক ছালেহ আহমদ এবং আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাহাব উদ্দিন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিক উদ্দিন, সাবেক সহসভাপতি ময়নুল হক এবং এনামুল হক নিয়মিত গণসংযোগ করছেন।

সুজানগর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান নছিব আলী, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল আছ আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক রহিম বক্ত মুসা সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, যুবদল নেতা ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল হক এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা এনসিপি নেতা মুহিবুর রহমান কামাল নির্বাচনী প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন—বর্ণি ইউনিয়নে উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ফয়সল আহমদ, নিজ বাহাদুরপুরে আব্দুস সালাম, উত্তর শাহবাজপুরে আকবর আলী, দক্ষিণ শাহবাজপুরে আব্দুল কুদ্দুস, বড়লেখা সদর ইউনিয়নে রবিউল ইসলাম সুহেল,

তালিমপুরে কাজী রুহুল আমিন, দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নে লুৎফুর রহমান, সুজানগরে লিয়াকত হাসান এবং দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নে আব্দুস সামাদ। তবে দাসেরবাজার ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন আহমদ, নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল হক, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত দাসেরবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্বপন কুমার চক্রবর্তী এবং

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সুজানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বদরুল ইসলামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছেন। এছাড়া বর্তমানে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আত্মগোপনে থাকা কয়েকজন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও নেতাও নীরবে নির্বাচনী প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস শহিদ খান বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিতে সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা বেশি থাকাটা স্বাভাবিক। বিএনপি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক দল।

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাঁকে চূড়ান্তভাবে সমর্থন দেওয়া হবে, তাঁর পক্ষেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল, আইন ও দলীয় নীতিমালা অনুসরণ করেই যথাসময়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

দলের দুঃসময়ে যাঁদের ত্যাগ, সাংগঠনিক অবদান, জনসম্পৃক্ততা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাঁদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও বিজয়ী হওয়ার সক্ষমতাও বিবেচনায় থাকবে।”

জামায়াতে ইসলামীর বড়লেখা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা ইসলাম উদ্দীন বলেন, “কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে ৯টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণার লক্ষ্য হলো জনগণের কাছে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করা।

সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত সততা, জনগ্রহণযোগ্যতা এবং স্থানীয় মানুষের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। দাসেরবাজার ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীর নামও শিগগির ঘোষণা করা হবে। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করি।”

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।