ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা-ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর থেকেই নদীতে নেমে পড়েছেন হাজারো জেলে। আজ রোববার (২৬ অক্টোবর) থেকে দেশের বিভিন্ন বাজারে ইলিশ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
সরকার গত ৪ অক্টোবর থেকে মা-ইলিশ রক্ষায় এই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আশ্বিনী পূর্ণিমার আগের চার দিন এবং অমাবস্যার পরের তিন দিনসহ মোট ২২ দিনকে প্রজনন মৌসুম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরামর্শে সময়সীমাটি নির্ধারিত হয়। প্রজননকালে পূর্ণিমা ও অমাবস্যা—উভয় সময়ই ডিম ছাড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এবার দুটি পর্যায়কেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাতে সর্বোচ্চ ডিম ছাড়ার সুযোগ নিশ্চিত হয়।
নিষেধাজ্ঞার সময় নদী ও উপকূলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এই সময় জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়, যাতে তারা নিয়ম মেনে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকেন।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, এবারের নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রায় ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ মা-ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পেরেছে। এর ফলে প্রায় ৪৪ দশমিক ২৫ হাজার কোটি জাটকা বা রেণু ইলিশ পরিবারে যুক্ত হয়েছে। এই রেণুগুলো পরবর্তীতে পরিপক্ব ইলিশে পরিণত হবে, যা দেশের ইলিশ উৎপাদন আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। ফলে ইলিশের প্রজনন হার বৃদ্ধি এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা বেশি।
বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের নদীগুলোতে আজ ভোর থেকেই জেলেরা ট্রলার ও নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে নেমেছেন। বিভিন্ন ঘাটে ইতোমধ্যে ছোট আকারের ইলিশ উঠতে শুরু করেছে। বাজারে ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়লে দামও স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।