শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পরেও জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দেননি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা শুধু সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে গিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেননি। তার পরিবর্তে, ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর চীনের হয়ে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রতিনিধিত্ব করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং। […]

যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পরেও জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দেননি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৩২

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা শুধু সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে গিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

তবে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেননি। তার পরিবর্তে, ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর চীনের হয়ে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রতিনিধিত্ব করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং।

দ্য ডিপ্লোম্যাটের এক নিবন্ধে বলা হয়, শি প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো মূল ভূখণ্ড সফর করছেন, কিন্তু জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক আয়োজনে যোগ দিতে উপকূল ধরে নিউইয়র্কে যাওয়ার জন্য ‘বাড়তি সময় ব্যয়’ করছেন না। যদিও নিউইয়র্কে যেতে তার বিমানে মাত্র এক ঘণ্টার মতো সময় লাগত।

তিন দিনের এই সফরে শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন।

২০১২ সালের শেষ দিকে চীনের শীর্ষ নেতা হওয়ার পর শি মাত্র একবার সরাসরি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গিয়েছেন। ২০১৫ সালে জাতিসংঘের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি নিউইয়র্কে যান এবং সশরীরে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। সেটিই ছিল সাধারণ পরিষদে তার প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র সরাসরি ভাষণ।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই সফরটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রে শির সর্বশেষ রাষ্ট্রীয় সফরও। তখন তার সফরসূচির অংশ হিসেবে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকও করেছিলেন তিনি। ফলে ২০২৬ সালে একই ধরনের সফর না করার সিদ্ধান্তটি আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০২১ সালে শি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন। ওই ভাষণে তিনি চীনের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের ঘোষণা দেন। এরপর থেকে তিনি সাধারণ পরিষদের সামনে আর কোনো ভাষণ দেননি।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর একটি হলো, গত বছরের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনেও শি যোগ দেননি। চীন গোলসংখ্যার বার্ষিকীকে বিশেষ গুরুত্ব দেয় এবং বিশেষ তারিখের সঙ্গে বিদেশ সফর ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বড় ধরনের উন্নয়নকে যুক্ত করে। মনে রাখা দরকার, জাতিসংঘের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শি নিজে উপস্থিত হওয়ার সময় বের করেছিলেন। সেটি কোনো ব্যতিক্রমও ছিল না—১৯৯৫ সালে চীনের নেতা হিসেবে জিয়াং জেমিনের পর থেকে জাতিসংঘের প্রতি দশ বছর পরপর অনুষ্ঠিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চীনের শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। ফলে ২০২৫ সালে জাতিসংঘের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শির অনুপস্থিতি আরও বেশি চোখে পড়ার মতো হয়ে ওঠে।

দ্য ডিপ্লোম্যাটের নিবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, চীন এখন জাতিসংঘেও বড় বৈশ্বিক উদ্যোগ ঘোষণা করা বন্ধ করে দিয়েছে। ২০২১ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে (ইউএনজিএ) ভার্চুয়াল ভাষণের মাধ্যমে গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ ঘোষণা করেছিলেন শি।

কিন্তু ২০২৫ সালে শি নতুন গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ ঘোষণা করেন চীনে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে, যা ইউএনজিএর এক মাস আগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জাতিসংঘের লক্ষ্য ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এই উদ্যোগটির সম্পর্ক আরও সরাসরি।

চীন একইভাবে নিজস্ব ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএআইসিও) প্রতিষ্ঠা করেছে। সংস্থাটি ‘একটি স্বাধীন আন্তঃসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা এগিয়ে নেয়া’।

একই লক্ষ্য অর্জনে জাতিসংঘের কাঠামোর মধ্যে কাজ করে নিজেদের উদ্যোগকে বৈধতা দেয়ার পরিবর্তে চীন এই সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। এক মাস আগে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের গ্লোবাল ডায়ালগ অন এআই গভর্ন্যান্সে ঘোষণা না করে চীন নিজস্ব এআই সম্মেলনেই ডব্লিউএআইসিওর ঘোষণা দেয়।

এদিকে, ট্রাম্প যখন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন কমিয়ে দিচ্ছেন, তখন ঘাটতি পূরণে চীন এগিয়ে আসেনি। জাতিসংঘের নির্ধারিত চাঁদার অর্থ পরিশোধে চীন নিজেও দীর্ঘদিন ধরে দেরি করে আসছে। ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ অর্থ দিত, তার তুলনায় চীনের অবদান এখনো সামান্য অংশ।

বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় জাতিসংঘের ‘মূল ভূমিকা’ নিয়ে চীন যতই কথা বলুক না কেন, বেইজিং স্পষ্টতই এমন জায়গাগুলোতেই বেশি মনোযোগ, অর্থ ও মর্যাদা দিতে পছন্দ করে, যেখানে তার নিয়ন্ত্রণ বেশি। এর মধ্যে চীন-নেতৃত্বাধীন এসসিওর মতো গোষ্ঠী যেমন রয়েছে, তেমনি ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের মতো পুরোপুরি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও রয়েছে।

নিক্কেই এশিয়া ধারণা করেছে, ইউএনজিএ এড়িয়ে যাওয়ার শির সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত সমকক্ষ হিসেবে তুলে ধরা। নিউইয়র্কে ছোট দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে শির মেলামেশা করলে সেই বার্তার প্রভাব নষ্ট হয়ে যেতে পারত বলে ধারণা করা হয়।

বিষয়টি নিজেই তাৎপর্যপূর্ণ। সব দেশের সমান প্রতিনিধিত্ব এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় সমান মতামতের অধিকার থাকা উচিত—বহুমেরু বিশ্বের বিষয়ে চীন যতই বক্তব্য দিক না কেন, বাস্তব পরিস্থিতিতে বেইজিং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই অনুসরণ করে।

২০১০ সালে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর এক উত্তপ্ত বৈঠকে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক বেশ খোলাখুলিভাবেই বলেছিলেন, ‘চীন একটি বড় দেশ এবং অন্য দেশগুলো ছোট দেশ—এটাই বাস্তবতা।’ ট্রাম্পও বারবার যা দেখিয়েছেন, ‘বড় দেশ’ হওয়ার অন্যতম সুবিধা হলো জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য জায়গায় অগ্রাধিকার দিতে জাতিসংঘকে উপেক্ষা করার সুযোগ থাকা।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১৩০

আন্তর্জাতিক

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে […]

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ জুন ২০২৬, ১০:০৯

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে যারা সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি এই তিন দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করে থাকেন, তবে তিনিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। এছাড়া সৌদি নাগরিকদেরও ওই তিন দেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ‘ওয়াকায়া’ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে এই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরবের প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), রোগ নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদান প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র—যেমন রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চালুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলার কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়নি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১৩০

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়া দেশকে ‘শত্রু’ বিবেচনা করবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালাচ্ছে, কোনো দেশেরই তাতে অংশ নেওয়া উচিত নয়। কোনো দেশ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়া দেশকে ‘শত্রু’ বিবেচনা করবে ইরান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৪

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় কোনো দেশ যোগ দিলে তাকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে এ সতর্কবার্তা দেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালাচ্ছে, কোনো দেশেরই তাতে অংশ নেওয়া উচিত নয়। কোনো দেশ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ইরানের এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মিত্র কিংবা অন্য কোনো দেশ সহযোগিতা করলে তেহরান তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।

এর আগে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে এবার তার জবাব আগের তুলনায় আরও বড় পরিসরে দেওয়া হবে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান তার সামরিক কৌশলে পরিবর্তন আনছে। দীর্ঘদিন দেশটির সামরিক নীতি মূলত প্রতিরক্ষামূলক থাকলেও এখন তা ধীরে ধীরে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থানের দিকে যাচ্ছে।

তবে আকরামিনিয়া স্পষ্ট করেছেন, এর অর্থ ইরান আগাম হামলা চালানোর নীতি গ্রহণ করছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর কোনো আগ্রাসন হলে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে এবং সেই প্রতিক্রিয়ার পরিসর মূল হামলার চেয়েও বড় হবে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১৩০

আন্তর্জাতিক

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের […]

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৫

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারের ঘোষণার পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ করেন যে প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও আসতে দিতে চান না।

পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন যে তাদের দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্য কেউ এসে তাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবেন।

মুসাদিক মালিক আরও যুক্তি দেন যে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী চুক্তি না থাকলেও নদীর উপরিভাগে থাকা দেশগুলো নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।

অথচ দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার শিশুদের পানির অধিকার রয়েছে কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনটা প্রকৃত ন্যায়বিচার, তা নির্ধারণের জন্য তারা এই বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন।

একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন যে সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিটি আইনগতভাবে এখনও বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ এককভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।

তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’।

অন্য দিকে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় ও স্পষ্ট। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে একটি ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ মোট ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়া দিল্লি এই ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা মুলতবি ঘোষণা করে।

ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের মাটিতে লালিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সন্ত্রাসী পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দৃশ্যমান প্রমাণ দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১৩০