শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

শ্রমিক থেকে নিউ ইয়র্কে ৩ বিলাসবহুল বাড়ি কিরণের

বাবা নূর মোহাম্মদ ছিলেন স্কুলের দপ্তরি। ছেলে কিরণ টঙ্গীর একটি কারখানার শ্রমিক ছিলেন। শ্রমিক থেকে হন টঙ্গী পৌরসভার কমিশনার। এরপর খুলে যায় তার ভাগ্য। হয়ে যান গাজীপুর সিটির করপোরেশনের টঙ্গী এলাকার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিকবার কাউন্সিলর। টাকা ও ক্ষমতার জোরে কাউন্সিলর হয়েও একাধিকার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে আসাদুর রহমান কিরণ প্রায় পুরো এক […]

নিউজ ডেস্ক

১৯ নভেম্বর ২০২৪, ১৮:২৪

বাবা নূর মোহাম্মদ ছিলেন স্কুলের দপ্তরি। ছেলে কিরণ টঙ্গীর একটি কারখানার শ্রমিক ছিলেন। শ্রমিক থেকে হন টঙ্গী পৌরসভার কমিশনার। এরপর খুলে যায় তার ভাগ্য।

হয়ে যান গাজীপুর সিটির করপোরেশনের টঙ্গী এলাকার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিকবার কাউন্সিলর।
টাকা ও ক্ষমতার জোরে কাউন্সিলর হয়েও একাধিকার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে আসাদুর রহমান কিরণ প্রায় পুরো এক মেয়াদের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

ক্ষমতা কিরণকে বিপুল টাকার মালিক বানিয়ে দেয়। দেশ-বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়েছেন তিনি।
এমনকি নিউইয়র্ক শহরে তিনটি বিলাসবহুল বাড়ি করে নাগরিকত্বও পেয়েছেন।

গতকাল সোমবার রাতে যশোর জেলার বেনাপোলে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবির হাতে আটক হন আসাদুর রহমান কিরণ। তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তার বিরুদ্ধে গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন থানায় অসংখ্য মামলা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গীস্থ পাগার এলাকার বাসিন্দা আসাদুর রহমান কিরণের বাবা মরহুম নূর মোহাম্মদ খান ছিলেন একটি স্কুলের দপ্তরি এবং কিরণ ছিলেন একটি কারখানার শ্রমিক। স্বৈরশাসক এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগদানের মাধ্যমে আসাদুর রহমান খান কিরনের রাজনীতির হাতে খড়ি।

২০০০ সালে বর্তমান গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান দ্বিতীয় মেয়াদে টঙ্গী পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে, কিরণ রাতারাতি আজমত উল্লাহ খানের ঘনিষ্ঠজন হয়ে যান।

এরপর পর্যায়ক্রমে তিনি টঙ্গী পৌরসভার কমিশনার এবং পরবর্তীতে ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। কমিশনার নির্বাচিত হয়েই কিরণ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

২০১৩ সালের প্রথম নির্বাচনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মান্নান ২০১৩ সালে সাময়িক বরখাস্ত হলে আসাদুর রহমান কিরণ বিপুল টাকার বিনিময়ে প্যানেল মেয়র হয়ে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হন। ভারপ্রাপ্ত মেয়র নির্বাচিত হয়ে ২০১৫-২০১৮ মাত্র ২৭ মাসেই তিনি সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন।

কিরণ গাজীপুরের টঙ্গীতে তিনটি এবং ভালুকায় ২০০ বিঘা জমিতে ১টি শিল্প কারখানা গড়ে তোলেন।

টঙ্গী এবং উত্তরাতেও একটি বহুতল বাড়ি করে অসংখ্য জমি, ফ্লাটে বিনিয়োগ করেন। তার দায়িত্বকালীন সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন শিল্প কারখানার হোল্ডিং ট্যাক্স জালিয়াতি করে কমিয়ে এবং ঠিকাদারদের থেকে কমিশন বাণিজ্য করে বিভিন্ন সেটেলমেন্ট করে কয়েকশত কোটি টাকা যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিরণ এবং তার স্ত্রীর নামে যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক শহরে তিনটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক বলে জানা গেছে।

এদিকে ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির দায়ে সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বরখাস্ত হলে কিরণ আবারো বিপুল টাকার বিনিময়ে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছেন তারই ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র।

কিরণের দুর্নীতির মধ্যে উত্তরায় ১১ নাম্বার সেক্টরে ৭ নাম্বার রোডে ১০ নম্বর বাড়ি (৭ তলা আলিশান ভবন বর্তমান মূল্য আনুমানিক ১৫ কোটি টাকা) উত্তরায় ৭ নাম্বার সেক্টরে ১৮ নাম্বার রোডে ৯৫ নম্বর ১২ তলা ভবন (নির্মাণাধীন) আনুমানিক মুল্য ৩৫ কোটি টাকা)।

রূপায়ন সিটি উত্তরায় ম্যাজিস্ট্রিক ফেইস ৮ নাম্বার বিল্ডিং এ দুটি লাক্সারিয়াস কন্ডোনিয়াম ফ্ল্যাট, যার আনুমানিক মূল্য ১৬৬০ কোটি টাকা।

এছাড়া ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় নিজের এবং তার স্ত্রীর নামে ২০০ বিঘা জমির ওপর ফ্যাক্টরি গড়ে তুলেছেন। যার আনুমানিক মূল্য ৩০০ কোটি টাকা। রাজধানীর গুলশান ২ এ ৭৯ নাম্বার রোডে ২৫০০ স্কয়ারফিটের আলিশান ফ্ল্যাট রয়েছে কিরণের।

যার আনুমানিক মূল্য ১৪ কোটি টাকা। গাজীপুর সিটি করপোরেশন আওতাধীন টঙ্গী জোনে তার তিনটি ফ্যাক্টরি রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ৩০০ কোটি টাকা। তাছাড়া টঙ্গীর পাগার, আশুলিয়া এবং গাজীপুরে তার নিজ নামে এবং স্ত্রী, শ্যালক এবং শ্যালিকার নামে ১১২ বিঘা জমি রয়েছে।

টঙ্গীর পাগারে সংখ্যালঘুদের জমি ও মরকুন কবরস্থান দখলেও অভিযোগও কিরণের বিরুদ্ধে। প্রথম মেয়াদে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দুর্নীতি করে পাচার করা টাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে তিনটি বাড়ি করেন। যার আনুমানিক মূল্য ৪০০ কোটি টাকা।

তার নিজ নামে, স্ত্রী, শ্যালক এবং শ্যালিকার নামে এবং ছেলে-মেয়ের নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং বাংলাদেশে বিপুল নগদ অর্থ রয়েছে কিরণের। নিজ নামে, স্ত্রী, শ্যালক এবং শ্যালিকার নামে বিভিন্ন ব্যাংকের লকারে রক্ষিত ৫০০-৬০০ ভরি স্বর্ণ ও ডায়মন্ড রয়েছে।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন পালনের নামে কিরণ সিটি করপোরেশনের খরচের তহবিল থেকে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৭৬ জন কাউন্সিলর এবং কিছু কর্মকর্তাদের পিকনিক আয়োজন করার নামে করপোরেশনের তহবিল থেকে ৫০ লাখ টাকা খরচ বাবদ দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।
গত বছরের ২০ জুলাই দুদকে জমা পড়া অভিযোগ লাল ফিতায় আটকে গেলে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন হয়। গত বছর ২১ আগস্ট হাইকোর্টে রিট করা হয়।

২৮ ফেব্রুয়ারি আদালত কিরণের দুর্নীতির অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। হাইকোর্ট চার মাসের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে সময় বেঁধে দেন।

একইসঙ্গে গাজীপুরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারিও করেছিল আদালত।

এ বিষয়ে টঙ্গী ও গাজীপুর আওয়ামী লীগের কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কিরণ ৫ আগস্টের আগে কালের কণ্ঠের এই প্রতিনিধিকে বলেছিলেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। তার যা সম্পদ আছে, সবই বৈধ।

তার কোনো অবৈধ সম্পদ তার নেই। রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান কিরণ।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।