পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজিরহাট এলাকায় হঠাৎ করে বেড়িবাঁধ ও সড়কের বড় একটি অংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ার আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আকস্মিকভাবে এ ভাঙনের ঘটনা ঘটে। ভাঙনস্থলের আশপাশে বসবাসকারী মানুষজন আতঙ্কে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা। এ সময় থানা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করেই বেড়িবাঁধ ও সড়কের একটি অংশ নদীর দিকে ধসে পড়তে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সড়কের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ভাঙনস্থলের আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বেড়িবাঁধের ভাঙন আরও বিস্তৃত হলে নদীর পানি বাধাহীনভাবে লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারে। এতে হাজিরহাটসহ আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ার পাশাপাশি বসতবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে ঘটনাস্থলে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “এটা একধরনের বিপর্যয়। হঠাৎ বেড়িবাঁধ ও সড়ক ভেঙে নদীতে বিলীন হওয়ায় চরম ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি টিম দ্রুত এসে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।”
তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।”
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর (এমপি) জানান, “দশমিনা হাজিরহাট বেরিবাঁধের হঠাৎ অস্বাভাবিক ভাঙনের বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও সচিব কে অবহিত করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে যতটুকু ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা যায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। আগামী শনি ও রবিবার আমি নিজে এলাকায় থাকবো।”
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে নদীর পানি যাতে লোকালয়ে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য দ্রুত ভাঙনস্থলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় হাজিরহাট ও আশপাশের এলাকায় নদীর পানি প্রবেশের আশঙ্কায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।