আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর থেকে নজরে থাকা মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদের দেশ ত্যাগের তথ্য সরকারি ও নিরাপত্তা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে; জানা যায় তিনি ৯ অক্টোবর তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং বর্তমানে কলকাতার নিউটাউন এলাকার সানজিবা গার্ডেনে সপরিবারে অবস্থান করছেন—স্থানীয় ও ঢাকা-ভিত্তিক সূত্রগুলো এই তথ্য দিয়েছে।
সেনা সদর বলছে, কবীরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং তাকে ‘ইলিগ্যালি অ্যাবসেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে; ডিজিএফআই, এনএসআই ও বিজিবিকে তার দেশত্যাগ ঠেকাতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে—তবে প্রশ্ন থেকে যায় যে যে নজরদারি ও তৎপরতা ছিল, তবুও কীভাবে একজন সার্ভিং জেনারেল সীমান্ত পেরিয়ে পালাতে সক্ষম হলেন। মোঃ রবিউল আলম, ঢাকা থেকে জানান—এ ঘটনাটি নিয়ে নিরাপত্তা পর্যায়ে শোরগোল বিরাজ করছে এবং সেনাবাহিনীকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে; এই প্রসঙ্গে সামরিক কর্মকর্তাদের নামও প্রকাশ্যে এসেছে, যা মামলাগুলোর সংবেদনশীলতা আরও বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি একটি উচ্চপদস্থ সার্ভিস কোর্সপ্রশিক্ষিত জেনারেল অবৈধভাবে দেশ ত্যাগ করে থাকেন, তা দেশের সামরিক শৃঙ্খলা, নজরদারি ব্যবস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী ও অন্য নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা দাবি করেছেন—যদি কারোই পালাতে সাহায্য করা হয় তা খতিয়ে দেখে দোষীদের ব্যাপকভাবে শাস্তির মুখে দাঁড় করানো উচিত; পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে এই ঘটনার সত্যতা তুলে ধরারও আহ্বান জানান তারা। সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এখন সময় এসেছে স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত করে জনগণকে ফলাফল জানানোর—না হলে এ ঘটনার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে।
সরকারি ও সামরিক সূত্র একইসাথে বলছেন, তদন্ত অব্যাহত আছে এবং যথাযথ প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে; তবে জনগণের বিশ্বাস ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে যে অনিষ্পষ্টতা দেখা দিয়েছে, তার জবাব জনগণের কাছে দেওয়াই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।