ফেরারি পাখিরা কখনো ফিরে আসে না, শেখ হাসিনাও আর দেশে ফিরতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, শেখ হাসিনাকে যদি জোর করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো তাঁর ফিরে আসার সুযোগ থাকত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর পক্ষে দেশে ফিরে আসা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, লেলিন কিংবা ইমাম খোমেনি নিজ দেশে ফিরে আসতে পেরেছিলেন, কারণ তাঁরা দেশের অর্থ পাচার করেননি, অবৈধভাবে সম্পদ বা প্লট নেননি এবং ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করেননি। এ কারণেই তাঁদের প্রত্যাবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক ঐক্য নষ্ট হলে ফ্যাসিবাদ ভিন্ন কোনো রূপে আবারও ফিরে আসার চেষ্টা করতে পারে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করতে হবে।
রিজভী বলেন, জুলাই ছিল দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। এই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে এমন একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে দেশে আর কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে।
শেখ হাসিনার সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বার্থে দেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও জাতীয় স্বার্থের চেয়ে ক্ষমতা ধরে রাখাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নাজমুল হোসাইন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক আমিনুল আক্তার এবং কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দীন আহমেদ।