ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করীম বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাব বা ‘রক্তচক্ষু’ মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর দাবি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খোকসা উপজেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফয়জুল করীম বলেন, ‘ব্যক্তির পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু নীতির পরিবর্তন হয়নি। আদর্শেরও পরিবর্তন হয়নি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কী চায়—এটা স্পষ্ট। বাংলাদেশের মাটিতে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করতে চাই। কোনো আমেরিকার রক্তচক্ষু, কোনো ভারতের রক্তচক্ষু বাংলাদেশে থাকবে না।’
দেশের দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির পক্ষে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। শুধু সরকার বা শাসক পরিবর্তন করলেই দেশের পরিস্থিতির মৌলিক পরিবর্তন হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘একজনের নাম এ, একজনের নাম বি, আরেকজনের নাম সি—তিনজনই যদি চোর হয়, তাহলে এ ক্ষমতায় থাকুক বা বি ক্ষমতায় আসুক, পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। কারণ ব্যক্তি পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু নীতি ও আদর্শের পরিবর্তন হয়নি।’
সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, দেশে বিভিন্ন সময়ে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। ব্রিটিশ শাসনের অবসান, পাকিস্তান থেকে পরিবর্তন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকারও এসেছে। কিন্তু এরপরও দুর্নীতি ও চুরি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
তিনি বলেন, বারবার শাসক পরিবর্তন হলেও দুর্নীতির সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসেনি। এর পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরের দুর্নীতিও বড় কারণ বলে মনে করেন তিনি।
ফয়জুল করীম আরও বলেন, রাজনৈতিক দল করার উদ্দেশ্য যদি চাঁদাবাজি, দখলদারি ও অবৈধ সুবিধা নেওয়া হয়, তাহলে দেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এতে কিছু মানুষ দ্রুত সম্পদের মালিক হলেও দেশের অধিকাংশ মানুষের জীবনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।
তিনি বলেন, অতীতে শেখ হাসিনার সরকার পরিবর্তন হবে—এমনটা অনেকেই অসম্ভব মনে করতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন হয়েছে। একইভাবে জনগণের মধ্যে ইসলামী ঐক্যমতের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হলে সেটিও দ্রুত বাস্তবায়িত হতে পারে।
মানুষের চিন্তা ও অবস্থান পরিবর্তনে দীর্ঘ সময় লাগে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের মন পরিবর্তনের জন্য কখনো কখনো মাত্র এক সেকেন্ডই যথেষ্ট।