স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ দাবি করেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটটি সাংবিধানিক ছিল না; বরং একটি অবৈধ আদেশের ভিত্তিতে তা আয়োজন করা হয়েছিল। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়াই ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর অধীনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, গণভোটে চারটি পৃথক প্রশ্নের বিপরীতে একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের সুযোগ রাখা হয়েছিল, যা যথাযথ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। তার মতে, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর বিষয়ে জনগণের মতামত জানতে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নে গণভোট হওয়া উচিত ছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত কয়েকটি কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু কমিশন সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ছাড়াই গঠন করা হয়েছিল। বিশেষ করে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের জন্য কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও দেশীয় বাস্তবতার সমন্বয়ে সরকার আগামী সংসদ অধিবেশনে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘গুম প্রতিরোধ আইন’ আনতে চায়। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইনও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি মব জাস্টিসের সমালোচনা করে বলেন, মব কখনো বিচার হতে পারে না। তার মতে, আইনের শাসন দুর্বল হওয়ার কারণেই এ ধরনের সংস্কৃতির বিস্তার ঘটেছে। তিনি প্রশাসন ও বিচার বিভাগের মাধ্যমে আইনের শাসন সুসংহত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সালাউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা প্রায় ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশই বর্তমান সরকার আইনে পরিণত করেছে। তবে স্থায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবিধানকে একটি পরিবর্তনশীল দলিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে গণভোটের বিধান ফিরে এসেছে। তবে প্রস্তাবনা বা মৌলিক সাংবিধানিক বিষয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে গণভোট আয়োজনের বিধান রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ এবং গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর। এতে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসির উদ্দিন।