মোঃ হাসনাইন আহম্মেদ, ভোলা
ভোলাঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত অনার্স ২০২২-২৩ সেশনের ফাইনাল পরীক্ষার ফরম ফিলাপ চলছে। তবে এবার স্মরণকালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ফি ধার্য করায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের ফরম ফিলাপ নিয়ে পড়তে হচ্ছে চরম সংকটে। অনেকের পরীক্ষার ভবিষ্যতও হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত।
আজ ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফরম ফিলাপের শেষদিনেও দেখা গেছে ভোলা সরকারি কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ফি’র কারণে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। ঠিক এই সময়ে ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরাফাত ইসলাম ইফতির উদ্যোগে এবং ভোলা জেলা ছাত্রদলের সার্বিক সহযোগিতায় আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ১২ জন শিক্ষার্থীকে দুই দফায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
জানা যায়, সহায়তা পাওয়া শিক্ষার্থীরা সবাই দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৪ জন, গণিত বিভাগের ১ জন, সমাজকর্ম বিভাগের ৩ জন, মৃত্তিকা বিভাগের ২ জন এবং অর্থনীতি বিভাগের ২ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
সহায়তার অর্থ ভোলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইসরাফীলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর জামাল হোসেন, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মো. মাহাবুব আলমসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানরা।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল নেতা আবদুস সামাদ, ফজলে রাব্বি, সাকিব হোসেন সাখাওয়াত, নাঈম হোসেন, মোঃ সিফাত, কামরুল ইসলাম রাব্বি, আবদুল্লাহ আল জিসান, নাফি ও সুফিয়ানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রশংসায় ভাসছে ছাত্রদল। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তারিকুল ইসলাম বলেন, “অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমরা প্রত্যাশা করি, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে প্রতিটি ছাত্র সংগঠন এভাবে এগিয়ে আসবে।”
ছাত্রদল নেতা ইফতি বলেন, “আমরা ভোলা সরকারি কলেজের ১২ জন শিক্ষার্থীর ফরম ফিলাপে আর্থিক সহায়তা করেছি। এতে ভোলা জেলা ছাত্রদল ও বিভিন্ন পেশাজীবী আমাদের সহযোগিতা করেছেন। আমি তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতেও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।”
কলেজ ছাত্রদলের নেতারা বলেন, “ছাত্রদল একটি শিক্ষার্থী বান্ধব সংগঠন। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় থেকে শুরু করে পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা সবসময় কাজ করছি। শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে ছাত্রদল অতীতে পাশে ছিল, এখন আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
জানা গেছে, আর্থিক সহায়তার পরিমাণ শিক্ষার্থীর অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে। তাদের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তবে ছাত্রদল নেতারা কলেজ প্রশাসনকেও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।