রবিবার, ১০ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

মা দিবসে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা

আবু তাহের, জাককানইবি বিশ্ব মা দিবস আজ। জন্মের পরে যার সঙ্গে সন্তানের সবচেয়ে বেশি মিতালি, সন্তানের সবচেয়ে বেশি আপন তিনি মা। বার্ট্রান্ড রাসেল তার ‘ম্যারিজ অ্যান্ড মোরালস’ বইয়ে বলেছেন, মাতৃত্ব সহজাত প্রবৃত্তি, পিতৃত্ব সহজাত নয়। সেজন্য প্রকৃতির কিছু ব্যতিক্রম বাদে সর্বত্র দেখা যায় সন্তানের জন্য মায়েরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে দ্বিধাবোধ করেন না। জন্মদাত্রী মা, […]

মা দিবসে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১০ মে ২০২৬, ১২:০৪

আবু তাহের, জাককানইবি

বিশ্ব মা দিবস আজ। জন্মের পরে যার সঙ্গে সন্তানের সবচেয়ে বেশি মিতালি, সন্তানের সবচেয়ে বেশি আপন তিনি মা। বার্ট্রান্ড রাসেল তার ‘ম্যারিজ অ্যান্ড মোরালস’ বইয়ে বলেছেন, মাতৃত্ব সহজাত প্রবৃত্তি, পিতৃত্ব সহজাত নয়। সেজন্য প্রকৃতির কিছু ব্যতিক্রম বাদে সর্বত্র দেখা যায় সন্তানের জন্য মায়েরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে দ্বিধাবোধ করেন না।

জন্মদাত্রী মা, যার কল্যাণে পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখে সন্তান। সেই মায়ের স্মরণে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার ‘বিশ্ব মা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। যদিও মাকে ভালোবাসা-শ্রদ্ধা জানাতে কোনো দিনক্ষণ লাগে না, তবুও মাকে গভীর মমতায় বিশেষভাবে স্মরণ করার দিন আজ।

এবারের মা দিবসে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন শিক্ষার্থী আবু তাহের।

মাকে নিয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘মা শব্দটা যত ছোট, তার ভেতরের জগৎ ততটাই অসীম। এই এক অক্ষরের ভেতরেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সব আশ্রয়, সব শান্তি, সব নিরাময়।

মা’র কোল যেন এমন এক ছায়া, যেখানে ক্লান্তি এসে থেমে যায়, আর ব্যথা ধীরে ধীরে ভুলে যেতে শেখে তার নিজের অস্তিত্ব। রাত জেগে সন্তানের পাশে বসে থাকা সেই মুখটা, যেন নিঃশব্দ প্রার্থনার সবচেয়ে সুন্দর রূপ-যেখানে চাওয়া নেই, আছে শুধু নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। মায়ের চোখে যে নীরব কান্না লুকিয়ে থাকে, তা পৃথিবীর কোনো শব্দে অনুবাদ করা যায় না-কারণ সেই কান্না শুধু অনুভবের ভাষা জানে।

আর জীবনের সব হারানোর মাঝেও, ‘মা আছে’ এই একটি বাক্যই মানুষের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় সাহস হয়ে দাঁড়ায়।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাবেয়া আক্তার অমি বলেন, ‘মা পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নাম। যে মানুষটি নিজের সুখ ত্যাগ করে সন্তানের মুখে হাসি ফোটান, তিনিই মা। জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে মায়ের ভালোবাসা, ত্যাগ আর আশীর্বাদ আমাদের সাহস জোগায়। মায়ের ছায়া যেন এক নিরাপদ আশ্রয়, যেখানে দুঃখ-কষ্টও শান্ত হয়ে যায়।

মা দিবস শুধু একটি দিন নয়, বরং মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপলক্ষ। মায়ের অবদান কখনো শব্দে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তিনি আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে বড় শক্তি। আজকের এই বিশেষ দিনে পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি রইলো গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। ভালো থাকুক পৃথিবীর প্রতিটি মা, হাসিতে ভরে উঠুক তাদের জীবন।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী জায়েদ আহাম্মদ বলেন, ‘মা একটিমাত্র শব্দ অথচ এর বিস্তার অনন্ত। জন্মের পূর্ব মুহূর্ত থেকেই যিনি সন্তানের অস্তিত্বকে আপন সত্তায় ধারণ করেন, জন্মের পর নিঃস্বার্থ স্নেহ, ত্যাগ ও মমতায় যিনি জীবনকে পরিপূর্ণ করে তোলেন তিনি মা।

মানবজীবনের সবচেয়ে নির্মল আশ্রয়, সবচেয়ে নির্ভরতার নাম মা। সন্তানের হাসির জন্য একজন মা নিজের স্বপ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্য নির্বাকেই বিসর্জন দেন। সন্তানের বেদনায় যার হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়, সন্তানের সাফল্যে যার চোখ আনন্দে দীপ্ত হয় তিনিই মা।

মায়ের মহিমা কোনো নির্দিষ্ট দিবসের সীমায় আবদ্ধ নয়। তবুও আন্তর্জাতিক মা দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশে যেনো আমরা কখনো উদাসীন না হই। আজ পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও অফুরন্ত ভালোবাসা। মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা—পৃথিবীর প্রতিটি মাকে শান্তি, সম্মান ও কল্যাণে পরিপূর্ণ রাখুন, ইহকাল ও পরকালে।’

স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সেলিনা আক্তার শেলী বলেন, ‘মা শুধু একটি শব্দ নন, তিনি একজন মানুষের পুরো জীবনের অনুভূতি, শক্তি ও আশ্রয়ের নাম। আমার জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে যিনি নীরবে সাহস জুগিয়েছেন, ব্যর্থতায় পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সাফল্যে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হয়েছেন তিনি আমার মা।

নিজের স্বপ্ন, ক্লান্তি ও না-পাওয়াগুলো আড়াল করে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার যে অসাধারণ ক্ষমতা একজন মায়ের থাকে, তা সত্যিই অতুলনীয়। আমি আজ যে মানুষ হয়ে উঠছি, তার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের ত্যাগ, ধৈর্য ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার।

অনেক সময় আমরা মায়ের ভালোবাসা বুঝতে পারি না, অভিমান করি, অথচ তাঁর প্রতিটি ছোট ছোট ত্যাগ আমাদের জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। মা কখনো নিজের কথা ভাবেন না; সন্তানের হাসিই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

Mother’s Day উপলক্ষে পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা, অফুরন্ত ভালোবাসা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। পৃথিবীর প্রতিটি মা ভালো থাকুন, সম্মানিত হোন, আর সন্তানের ভালোবাসায় আজীবন আলোকিত থাকুন। মা দিবসের শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা নিও ‘আম্মু’।’

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাসকেরাতুন নূর বর্না বলেন, ‘অকুণ্ঠ ভালোবাসার অনন্ত উৎস হলো মা। পৃথিবীর যত স্নিগ্ধ সুন্দর ফুল তার চেয়েও সুশ্রী হলো মা। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ করুণার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হলো মা। নিঃস্বার্থ ত্যাগের মূর্ত প্রতীক হলো মা,যার স্নেহের  আঁচল আমার জীবনে তপ্ত রোদের শীতল ছাঁয়া হয়ে থাকে। মা হলো অভেদ্য অবলম্বন। সীমাহীন বিসর্জনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। 

সততা,নৈতিকতা, সহানুভূতি, ধৈর্য, সাহস,মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা সবকিছু যিনি শেখান তিনি হলেন মা। ধরণীর সকল ইতিবাচক জানতে জাগিয়ে দেন মা। সন্তানের জীবনের ধ্রুবক হলো মা। মা শুধু  একজন ব্যক্তি নন মা হলো অনুভূতি। সবচেয়ে উৎকর্ষ , সবচেয়ে দক্ষ, সব চেয়ে জান্তা, মহাগুরু,আদর্শ শিক্ষক  হলো মা। মা যিনি সন্তানের চাহনি দেখলেই তার মনের অবস্থা, তার চাওয়া বোঝার সক্ষমতা রাখেন।

মা হলো বড় সাইকিয়াট্রিস্ট, মা হলো দার্শনিক, মা ডাক্তার, মা উপদেষ্টা, মা ফ্যাশনডিজাইনার, মা হলো পৃথিবী। সকল কাজের মূল অনুষঙ্গ হলো মা। বিষন্নতা, মলিনতা, হতাশা ও ক্লান্তির মহৌষধ হলো মায়ের ক্রোর। সর্বোচ্চ শাসনভার এবং সবকিছু বন্টণের মহাপাল্লা হলো মায়ের হাত। মায়ের হাসির উজ্জ্বলতা যেন শান্তিপূর্ণ  এক শান্তি। মা হলো কারিগর, সুহৃদ, শান্তি, নিঃস্বার্থ, শাসক, ভিত্তি এবং শক্তিশালী শক্তি। মাকে ভালোবাসার কোনো বিশেষ দিন হয়না তবুও 

এই নির্ধারিত একটি দিনে হাজারো স্মৃতির আল্পনায় খুদে খুদে উপমা দিয়ে আজ মায়ের অর্থাৎ সেই বিশাল হৃদয়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা,অন্তহীন যত্ন, মমতা আর নীরব আত্মত্যাগের  প্রতি রইলো সশ্রদ্ধ সালাম, ভালোবাসা এবং বিনম্র স্বীকৃতি।’

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। […]

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:১৪

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তারা পূর্বে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ডিভিএম এবং অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রি বাতিল করে তাদের বি.এস.সি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১৭৩১৮/২০২৫ মামলার রায়ে পৃথকভাবে ডিভিএম ও বি.এসসি এএইচ (অনার্স) ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হয় এবং স্বতন্ত্র কোর্সসমূহ সমান্তরালভাবে চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। রায়ের আলোকে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় পূর্বের ডিভিএম ডিগ্রি দাবি জানায়।

এ বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সৈকত হাসান বলেন, “আমাদের যখন কম্বাইন্ড ডিগ্রির আওতায় আনা হয়েছিল, তখন জানানো হয়েছিল যে সারা দেশে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রি বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি বাস্তবায়ন করা হবে।

কিন্তু বাস্তবে তা আর কার্যকর হয়নি। এখন হাইকোর্টের রায় আমাদের পূর্বের ডিগ্রি ডিভিএম-এ ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। যেহেতু ডিভিএম একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি, তাই আমরা আমাদের মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন অনুযায়ী ডিভিএম ডিগ্রি পুনঃবাস্তবায়ন চাই।”

এ সময় অপর আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ডিভিএম ডিসিপ্লিনে প্রত্যাবর্তনের পেছনে একাডেমিক ও পেশাগত কয়েকটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে ডিগ্রির স্বীকৃতি, পেশাগত নিবন্ধন ও উচ্চশিক্ষায় সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো ,ক্রেডিট সমন্বয় বা প্রশাসনিক রূপান্তরজনিত কারণে সেশন জট কিংবা একাডেমিক বিভ্রান্তি দূর করা, মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং পেশাগত পরিচয় ও কর্মজীবনের পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা।”

শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনকে আইনসম্মত ও একাডেমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও প্রশাসনিক সমাধান প্রত্যাশা করেছেন। আদালতের রায় যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের ডিভিএম ডিসিপ্লিনে পুনঃঅন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সদয় বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।