শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

গলাচিপায় খাস জমির দখল নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ আহত অর্ধশত, হাসপাতালে ভর্তি -২৫

গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলায় সরকার থেকে ইজারা পাওয়া খাস জমিতে তরমুজ চাষ করতে গিয়ে সংঘর্ষে আহত হয়েছে ৬০ জন কৃষক ও দুই নারী। আহতদের মধ্যে ২৫ জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতরা অভিযোগ করেন, গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিনের চরবাংলা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হাওলাদার ও […]

গলাচিপায় খাস জমির দখল নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ আহত অর্ধশত, হাসপাতালে ভর্তি -২৫

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৪ নভেম্বর ২০২৫, ১৪:২৯

গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলায় সরকার থেকে ইজারা পাওয়া খাস জমিতে তরমুজ চাষ করতে গিয়ে সংঘর্ষে আহত হয়েছে ৬০ জন কৃষক ও দুই নারী। আহতদের মধ্যে ২৫ জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আহতরা অভিযোগ করেন, গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিনের চরবাংলা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হাওলাদার ও তার সহযোগীরা বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়।

তবে ওই এলাকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আশাদুর রহমান।

খাস জমি নিয়ে বিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা হামলা চলমান থাকায় গত শনিবার গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী মাহমুদুল হাসান স্থানীয় বিএনপির দুই নেতা ও গণঅধিকারের এক নেতাকে নিয়ে আপোষ মীমাংসা করে দেওয়ার পরেও বৃহস্পতিবার এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন, মোঃ নিজাম গাজী (৬২), নুর মোহাম্মদ সিকদার (৭০), মোঃ আলম হাওলাদার (৪৭), মোঃ কবির মেলকার (৫৫), মোঃ মুসা খান (২৩), মোঃ রিয়াজ মুসুল্লি (৩৮) মোঃ হাসান সিকদার, মোঃ আনোয়ার ফকির (৪৭) এবং মোঃ সিরাজ খা (৬০), মোঃ শফিক হাওলাদার (৪০), মোঃ বাবুল তালুকদার (৪৮), মো: বারেক ফকির (৬০), মো: শাহাবুদ্দিন (৪৯), মো: বেল্লাল ঢালী (৬০),

মোঃ সোহেল তালুকদার (৪২), মোঃ জামাল তালুকদার (৫৪), মোসাঃ রেখা বেগম (৩৮), আকলিমা বেগম (৩০), নিলুফা বেগম (৪০), মোঃ ফারুল মীর (৫৫), মোঃ শাহীন মীর (৩০), মোঃ আনোয়ার হোসেন ফকির (৪৮), মোঃ তৈয়ব মোল্লা (৪২), মোঃ ফরহাদ তালুকদার (২৭)। এদের সবাইকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সংঘর্ষে আহত কৃষক জালাল তালুকদার (৫৪) অভিযোগ করেন,‘ভূমি অফিস থেকে ইজারা পাওয়া জমিতে চাষ দিতে গেলে চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাকের বিশ্বাস,সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান এবং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হাওলাদার তাদের ওই জমিতে চাষ করতে বাঁধা দেয়।

গত শনিবার গলাচিপা ইউএনও স্যার এবং ওসি সাহেব উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে জমি ভাগাভাগি করে বিরোধ সমাধান করে দেন। ইউএনও এর সিদ্ধান্তে জমি কম পেলেও সংঘাত এড়াতে রাজি হই।’

তিনি আরো জানান, আজ দুপুরে তারা ওই জমিতে চাষ ও ঘর তুলতে যান। এসময় তাদের উপর হামলা চালানো হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

আহত সাহাবুদ্দিন তালুকদার বলেন, আমরা চরবাংলায় প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করছি। ওই এলাকার খাস জমি আমরা চরবাংলার মানুষেরাই ভাগ করে খাই। ইউএনও আমাদেরকে একসনা ডিসিআর দিছে।

আমাগো নামে আগের এসিল্যান্ড প্রত্যায়ন দিছে। ডিসিআরের জমিতে স্থানীয় বাকের বিশ্বাস, আনোয়ার হাওলাদার ও মতিন চরবাংলা ও চরবিশ্বাস দিয়া কিছু পোলাপান নিয়া আমাগো উপর হামলা করছে। ’

তিনি আরো বলেন, গত তিন মাস আগে উপজেলার ভূমি প্রশাসন তাদের ১৫৫ জন কৃষককে এ জমি একসনা ইজারা দেয়। কিন্তু চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাকের বিশ্বাস,সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মতিন,ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হাওলাদার তাদের জমিতে চাষ করতে দেয়নি।

এরপর কিছুদিন আগে ইউএনও এবং ওসি স্যার আমাদের নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করে দেন। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই জমিতে গেলে ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আনোয়ার হাওলাদার ও তার লোকজন হামলা করে।’

অভিযুক্ত চরবাংলা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হাওলাদার বলেন,‘চরবাংলা বিরোধীয় খাস জমি তাদের ঘর ছিল। আজ বৃহস্পতিবার তাদের ঘরটি ভেঙে অন্যরা ঘর নির্মান করছিল। এ কারণে নিষেধ করা হয়েছে।

চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাকের বিশ্বাস বলেন, ‘আমি দশমিনা ছিলাম। হামলার ঘটনার পর আমি জানতে পেরেছি। হামলার ঘটনাটি আমি প্রশাসনকে জানিয়েছি। তবে এ ঘটনার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই।’

পটুয়াখালী জেলা শাখার যুব অধিকার পরিষদের সহসভাপতি মো. মহিবুল্লাহ এনিম বলেন, আমার গ্রামের বাড়ি চরবিশ্বাস। কিন্তু এ চরটি আমার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিচ্ছিন্ন একটি চরের অংশ। তাই আমরা চরের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের সহয়তা আলোচনা করে সুন্দর একটা সমাধান দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু পরবর্তীতে কি হয়েছে আমার জানা নাই।’

এ ব্যাপারে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশাদুর রহমান বলেন, ‘চরবাংলার একটি গ্রুপ খাস জমি চাষ দিতে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে অনুমতি পায়,আরেক গ্রুপ কৃষক ভূমি অফিস থেকে ইজারা পায়। যা নিয়ে বেশকিছু দিন ধরে দুই গ্রুপ মধ্য বিরোধ চলছিল।

বিরোধের ঘটনায় আজ সংঘর্ষ হলে ইজারা পাওয়া কৃষকদের মধ্য ২৩ জন আহত হয়। আহতদের মধ্য ১৭ জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। তবে শোনা গেছে,অপর পক্ষের লোকজনও আহত হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে গলাচিপা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান বলেন,‘ বিরোধীয় বিসয়টি মীমাংসার জন্য গত শনিবার উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হয়। ওই সময় কৃষকদের বিরোধী গ্রুপ অর্থাৎ আজ যারা হামলা করেছে,তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেয়া হয়।

ওই সিদ্ধান্তের সময় উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা (এ্যাসিল্যান্ড) ও থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন। এঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।