মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

আক্রমণের ‘নিশ্চিত ও চূড়ান্ত’ জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর

কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলার পর নয়াদিল্লির উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার যেকোনো ভারতীয় প্রচেষ্টার ‘নিশ্চিত ও চূড়ান্ত’ জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে আজ শুক্রবার (২ মে) রাওয়ালপিন্ডিতে জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে (জিএইচকিউ) সেনাবাহিনী প্রধান […]

নিউজ ডেস্ক

০৩ মে ২০২৫, ১১:৫৩

কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলার পর নয়াদিল্লির উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার যেকোনো ভারতীয় প্রচেষ্টার ‘নিশ্চিত ও চূড়ান্ত’ জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে আজ শুক্রবার (২ মে) রাওয়ালপিন্ডিতে জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে (জিএইচকিউ) সেনাবাহিনী প্রধান (সিওএএস) জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনিরের সভাপতিত্বে একটি বিশেষ কর্পস কমান্ডারদের সম্মেলন (সিসিসি) অনুষ্ঠিত হয়।

গত ২২ এপ্রিল ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (আইআইওজেকে) পেহেলগামে হামলার পরবর্তী উত্তেজনার মধ্যে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। ঐ হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। ভারত কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই এ ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে। তবে ইসলামাবাদ স্পষ্টভাবে এতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে এবং ‘বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ তদন্তে’ সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে।

এ হামলাকে কেন্দ্র করে ভারত শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যার মধ্যে রয়েছে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করা, পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ভিসা বাতিল করা এবং ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বন্ধ করা। প্রতিশোধ হিসেবে পাকিস্তান ভারতীয় কূটনীতিক ও সামরিক উপদেষ্টাদের বহিষ্কার করে, শিখ তীর্থযাত্রীদের বাদ দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা বাতিল করে এবং সীমান্ত বন্ধ করে দেয়।

সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনিরের সভাপতিত্বে সামরিক শীর্ষ নেতৃত্বের এই বিশেষ অধিবেশনে পাকিস্তান-ভারত অচলাবস্থা এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগের ওপর আলোকপাত, পাশাপাশি বিরাজমান ভূ-কৌশলগত পরিস্থিতির একটি বিশদ পর্যালোচনা করা হয়।

এ সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘যেকোনো আগ্রাসন বা দুঃসাহসিকতার বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্য অটল সংকল্প’ পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সেনাপ্রধান আসিম মুনির সশস্ত্র বাহিনীর ‘অটল পেশাদারিত্ব, দৃঢ় মনোবল ও আভিযানিক প্রস্তুতির’ প্রশংসা করেন এবং ‘যেকোনো মূল্যে স্বদেশ রক্ষার’ জন্য পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ঐক্যের ওপর জোর দেন। তিনি ‘সব ফ্রন্টে উচ্চতর সতর্কতা ও সক্রিয় প্রস্তুতির’ ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে বিশেষ করে পেহেলগাম হামলার পর জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতীয় নৃশংসতার তীব্রতা বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া ‘ভারতীয় দখলদার বাহিনী নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের অব্যাহত লক্ষ্যবস্তু করার’ নিন্দা জানানো হয়।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ধরনের অমানবিক ও অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড কেবল আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করে এবং এজন্য একটি দৃঢ় ও আনুপাতিক প্রতিক্রিয়া দৃশ্যমান হয়।’

পাকিস্তানের সেনা কমান্ডাররা ভারতের ‘রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংকটের ধারাবাহিক ব্যবহারের ধরনের’ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তারা এটিকে ‘একটি পূর্বাভাসযোগ্য টেমপ্লেট অনুসরণের অভিযোগ করেন, যার মাধ্যমে (ভারতের) অভ্যন্তরীণ শাসন ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করা হয়’ বলে উল্লেখ করেন।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এই ঘটনাগুলো প্রায়শই ভারতের স্থিতিশীল অবস্থার পরিবর্তনের জন্য নেওয়া একতরফা পদক্ষেপের সঙ্গে মিলে গেছে, যেমনটি দেখা গেছে ২০১৯ সালে, যখন ভারত একইভাবে পুলওয়ামা ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে (সংবিধানের) ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরে স্থিতাবস্থা (আধা-স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা) একতরফাভাবে পরিবর্তন করেছে।’

চলমান ঘটনাপ্রবাহের বিষয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, পেহেলগাম হামলা ‘পশ্চিমাঞ্চলীয় যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চলমান জাতীয় প্রচেষ্টা থেকে পাকিস্তানের মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার জন্য (ভারতের) ইচ্ছাকৃত কৌশলের অংশ বলে মনে হচ্ছে; দুটি ক্ষেত্রেই পাকিস্তান চূড়ান্ত ও টেকসইভাবে ভিত্তি অর্জন করছে।’

‘ভারতীয় প্রক্সি সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ প্রদানের লক্ষ্যে এই ধরনের বিচ্যুতিমূলক কৌশল কখনোই সফল হবে না’, উল্লেখ করে আইএসপিআর।

সেনাবাহিনী আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, ভারত সিন্ধু পানি চুক্তিকে দুর্বল করার জন্য পেহেলগাম ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটি পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের একটি বিপজ্জনক প্রচেষ্টা, যা ২৪ কোটিরও বেশি পাকিস্তানির জীবন ও জীবিকা নির্বাহের জন্য হুমকিস্বরূপ। এটি দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত অস্থিতিশীলতাও বৃদ্ধি করছে।’

এ ছাড়া শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের বৈঠকে ‘পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ভারতীয় সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে’। এগুলোকে ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় করা কর্মকাণ্ড’ এবং ‘আন্তর্জাতিক নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন, যা সর্বজনীনভাবে অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।

পাকিস্তানের দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে সেনাবাহিনী বলেছে, ‘ভারত সরকারের ইচ্ছাকৃত অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা দৃঢ় সংকল্প ও স্বচ্ছতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে এবং (তাদের) পরাজিত করা হবে।’

বৈঠকটির শেষ পর্যায়ে সেনাপ্রধান আসিম মুনির ‘সমগ্র হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে জাতিকে রক্ষা করার কৌশলগত বাহিনীর আভিযানিক প্রস্তুতি, প্রতিরোধমূলক অবস্থান ও মনোবলের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা’ প্রকাশ করেন।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৭

আন্তর্জাতিক

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে […]

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ জুন ২০২৬, ১০:০৯

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে যারা সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি এই তিন দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করে থাকেন, তবে তিনিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। এছাড়া সৌদি নাগরিকদেরও ওই তিন দেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ‘ওয়াকায়া’ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে এই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরবের প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), রোগ নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদান প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র—যেমন রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চালুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলার কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়নি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৭

আন্তর্জাতিক

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের […]

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৫

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারের ঘোষণার পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ করেন যে প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও আসতে দিতে চান না।

পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন যে তাদের দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্য কেউ এসে তাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবেন।

মুসাদিক মালিক আরও যুক্তি দেন যে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী চুক্তি না থাকলেও নদীর উপরিভাগে থাকা দেশগুলো নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।

অথচ দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার শিশুদের পানির অধিকার রয়েছে কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনটা প্রকৃত ন্যায়বিচার, তা নির্ধারণের জন্য তারা এই বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন।

একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন যে সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিটি আইনগতভাবে এখনও বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ এককভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।

তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’।

অন্য দিকে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় ও স্পষ্ট। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে একটি ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ মোট ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়া দিল্লি এই ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা মুলতবি ঘোষণা করে।

ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের মাটিতে লালিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সন্ত্রাসী পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দৃশ্যমান প্রমাণ দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৭

আন্তর্জাতিক

ওমান উপকূলে ড্রোন হামলায় ডুবে গেছে ভারতীয় জাহাজ!

ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। জানা গেছে, ড্রোন হামলার পর সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায় ওই জাহাজটি। ‘এমএসভি হাজি আলি’ (Haji Ali) নামের কার্গো শিপের উপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। প্রাথমিক […]

নিউজ ডেস্ক

১৪ মে ২০২৬, ১৮:০৪

ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

জানা গেছে, ড্রোন হামলার পর সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায় ওই জাহাজটি। ‘এমএসভি হাজি আলি’ (Haji Ali) নামের কার্গো শিপের উপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার জেরেই জাহাজটি ডুবে গিয়েছে। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন ভারতীয় নাবিককেই নিরাপদে উদ্ধার করেছে ওমান কোস্টগার্ড।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, জাহাজের সব ক্রু সদস্য নিরাপদ আছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক বিবৃতিতে ভারত বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পাশাপাশি নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৭