বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

আক্রমণের ‘নিশ্চিত ও চূড়ান্ত’ জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর

কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলার পর নয়াদিল্লির উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার যেকোনো ভারতীয় প্রচেষ্টার ‘নিশ্চিত ও চূড়ান্ত’ জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে আজ শুক্রবার (২ মে) রাওয়ালপিন্ডিতে জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে (জিএইচকিউ) সেনাবাহিনী প্রধান […]

নিউজ ডেস্ক

০৩ মে ২০২৫, ১১:৫৩

কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলার পর নয়াদিল্লির উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার যেকোনো ভারতীয় প্রচেষ্টার ‘নিশ্চিত ও চূড়ান্ত’ জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে আজ শুক্রবার (২ মে) রাওয়ালপিন্ডিতে জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে (জিএইচকিউ) সেনাবাহিনী প্রধান (সিওএএস) জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনিরের সভাপতিত্বে একটি বিশেষ কর্পস কমান্ডারদের সম্মেলন (সিসিসি) অনুষ্ঠিত হয়।

গত ২২ এপ্রিল ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (আইআইওজেকে) পেহেলগামে হামলার পরবর্তী উত্তেজনার মধ্যে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। ঐ হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। ভারত কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই এ ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে। তবে ইসলামাবাদ স্পষ্টভাবে এতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে এবং ‘বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ তদন্তে’ সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে।

এ হামলাকে কেন্দ্র করে ভারত শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যার মধ্যে রয়েছে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করা, পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ভিসা বাতিল করা এবং ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বন্ধ করা। প্রতিশোধ হিসেবে পাকিস্তান ভারতীয় কূটনীতিক ও সামরিক উপদেষ্টাদের বহিষ্কার করে, শিখ তীর্থযাত্রীদের বাদ দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা বাতিল করে এবং সীমান্ত বন্ধ করে দেয়।

সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনিরের সভাপতিত্বে সামরিক শীর্ষ নেতৃত্বের এই বিশেষ অধিবেশনে পাকিস্তান-ভারত অচলাবস্থা এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগের ওপর আলোকপাত, পাশাপাশি বিরাজমান ভূ-কৌশলগত পরিস্থিতির একটি বিশদ পর্যালোচনা করা হয়।

এ সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘যেকোনো আগ্রাসন বা দুঃসাহসিকতার বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্য অটল সংকল্প’ পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সেনাপ্রধান আসিম মুনির সশস্ত্র বাহিনীর ‘অটল পেশাদারিত্ব, দৃঢ় মনোবল ও আভিযানিক প্রস্তুতির’ প্রশংসা করেন এবং ‘যেকোনো মূল্যে স্বদেশ রক্ষার’ জন্য পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ঐক্যের ওপর জোর দেন। তিনি ‘সব ফ্রন্টে উচ্চতর সতর্কতা ও সক্রিয় প্রস্তুতির’ ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে বিশেষ করে পেহেলগাম হামলার পর জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতীয় নৃশংসতার তীব্রতা বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া ‘ভারতীয় দখলদার বাহিনী নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের অব্যাহত লক্ষ্যবস্তু করার’ নিন্দা জানানো হয়।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ধরনের অমানবিক ও অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড কেবল আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করে এবং এজন্য একটি দৃঢ় ও আনুপাতিক প্রতিক্রিয়া দৃশ্যমান হয়।’

পাকিস্তানের সেনা কমান্ডাররা ভারতের ‘রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংকটের ধারাবাহিক ব্যবহারের ধরনের’ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তারা এটিকে ‘একটি পূর্বাভাসযোগ্য টেমপ্লেট অনুসরণের অভিযোগ করেন, যার মাধ্যমে (ভারতের) অভ্যন্তরীণ শাসন ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করা হয়’ বলে উল্লেখ করেন।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এই ঘটনাগুলো প্রায়শই ভারতের স্থিতিশীল অবস্থার পরিবর্তনের জন্য নেওয়া একতরফা পদক্ষেপের সঙ্গে মিলে গেছে, যেমনটি দেখা গেছে ২০১৯ সালে, যখন ভারত একইভাবে পুলওয়ামা ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে (সংবিধানের) ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরে স্থিতাবস্থা (আধা-স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা) একতরফাভাবে পরিবর্তন করেছে।’

চলমান ঘটনাপ্রবাহের বিষয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, পেহেলগাম হামলা ‘পশ্চিমাঞ্চলীয় যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চলমান জাতীয় প্রচেষ্টা থেকে পাকিস্তানের মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার জন্য (ভারতের) ইচ্ছাকৃত কৌশলের অংশ বলে মনে হচ্ছে; দুটি ক্ষেত্রেই পাকিস্তান চূড়ান্ত ও টেকসইভাবে ভিত্তি অর্জন করছে।’

‘ভারতীয় প্রক্সি সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ প্রদানের লক্ষ্যে এই ধরনের বিচ্যুতিমূলক কৌশল কখনোই সফল হবে না’, উল্লেখ করে আইএসপিআর।

সেনাবাহিনী আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, ভারত সিন্ধু পানি চুক্তিকে দুর্বল করার জন্য পেহেলগাম ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটি পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের একটি বিপজ্জনক প্রচেষ্টা, যা ২৪ কোটিরও বেশি পাকিস্তানির জীবন ও জীবিকা নির্বাহের জন্য হুমকিস্বরূপ। এটি দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত অস্থিতিশীলতাও বৃদ্ধি করছে।’

এ ছাড়া শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের বৈঠকে ‘পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ভারতীয় সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে’। এগুলোকে ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় করা কর্মকাণ্ড’ এবং ‘আন্তর্জাতিক নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন, যা সর্বজনীনভাবে অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।

পাকিস্তানের দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে সেনাবাহিনী বলেছে, ‘ভারত সরকারের ইচ্ছাকৃত অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা দৃঢ় সংকল্প ও স্বচ্ছতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে এবং (তাদের) পরাজিত করা হবে।’

বৈঠকটির শেষ পর্যায়ে সেনাপ্রধান আসিম মুনির ‘সমগ্র হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে জাতিকে রক্ষা করার কৌশলগত বাহিনীর আভিযানিক প্রস্তুতি, প্রতিরোধমূলক অবস্থান ও মনোবলের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা’ প্রকাশ করেন।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৮৫

আন্তর্জাতিক

‘আমরা কাতার নই, ওদের নরক দেখিয়ে ছাড়ব’: ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০০

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’

শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। এতে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে এমন হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ ।

জানা গেছে, দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৮৫

আন্তর্জাতিক

নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে ইরানের সাথে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের তুমুল লড়াই

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে। তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৯

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে।

তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে এই অভিযানে একজন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিমানটির দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের জন্য এখনও অনুসন্ধান চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর প্যারারেস্কিউ জাম্পারদের এক সাবেক কমান্ডার জানান, ইরানে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে বিশেষজ্ঞ মার্কিন যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটগুলো ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকা চষে বেড়াবে।

তিনি বলেন, যদি উদ্ধার লক্ষ্যমাত্রা এমন এলাকায় থাকে যেখানে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারে না, তাহলে এসি-১৩০ গানশিপ থেকে স্কোয়াডের সদস্যরা নেমে স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালাবে।

অন্যদিকে ইরানও নিখোঁজ মার্কিন ক্রু’কে পেতে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালাচ্ছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের পাইলটকে পাওয়ার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৮৫

আন্তর্জাতিক

পারমাণবিক বোমার চেয়েও কার্যকর অস্ত্র পেয়ে গেছে ইরান !

তেহরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্যের পেছনে সবসময় দুটি উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হয়: প্রথমত, ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে সতর্ক করা যে ইরানে আক্রমণ করলে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনো শত্রু বহন করতে চাইবে না। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধে ইসরায়েলের ওপর হুমকি কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের অবিচল নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০২

তেহরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্যের পেছনে সবসময় দুটি উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হয়: প্রথমত, ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে সতর্ক করা যে ইরানে আক্রমণ করলে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনো শত্রু বহন করতে চাইবে না।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধে ইসরায়েলের ওপর হুমকি কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের অবিচল নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ করে যে, বিশ্বকে চরম সমস্যায় ফেলতে ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই।

এই জলপথটি দ্রুত যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের ছায়াশক্তিরা এ অঞ্চলে ট্যাংকারগুলোতে আক্রমণ করছে এবং একটি টোল বা মাশুল ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মারওয়ান মুয়াশার বলেন, ‘ইরান আবিষ্কার করেছে যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের জন্য পারমাণবিক বোমা থাকার চেয়েও বেশি কার্যকর।’

ট্রাম্পের ক্ষোভ ও হতাশা
গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কড়া এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে তার ক্ষোভ উগরে দেন। বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই জলপথটি ফের খোলার জন্য সামরিক প্রচেষ্টার ব্যর্থতায় তিনি ইরানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘প্রণালি খুলে দাও… নয়তো তোমরা নরকে বাস করবে—শুধু দেখে যাও!’

অথচ কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প ভোটারদের সমর্থন পেতে এবং মিত্রদের আশ্বস্ত করতে ইতিবাচক সুর বজায় রেখেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে। কারণ ইরানের তেল বিক্রি করতেই হবে, সেটাই তাদের পুনর্গঠনের একমাত্র পথ।’

ট্রাম্প আরও জানিয়েছিলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্তির পথে এবং আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর চরম আঘাত হানবে।

হরমুজে নতুন ব্যবস্থা
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন কখনোই স্পষ্টভাবে বলেনি, এই যুদ্ধের মূল কারণ হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত রাখা, কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব হোয়াইট হাউজকে দিশেহারা করে তুলেছে। এমনকি ট্রাম্প ও তার মন্ত্রিসভা এমন ইঙ্গিতও দিয়েছে যে, প্রণালিটি না খুলেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করার কথা বিবেচনা করতে পারে।

ইরান সম্ভবত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবে। বিশ্লেষকরা এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার পেছনে ইরানের কোনো বিশেষ স্বার্থ দেখছেন না। কার্নেগি বিশ্লেষক করিম সাজাদপুর বলেন, তারা এখন প্রকাশ্যেই এই নিয়ন্ত্রণকে আনুষ্ঠানিক করার কথা বলছে, যেন এটি তাদের নিজস্ব ‘পানামা খাল’ হতে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই অগ্রহণযোগ্য।

সাজাদপুর ও মুয়াশার জানান, ইরান এখন কেবল সামরিক সক্ষমতার যুদ্ধের বদলে ‘রাজনৈতিক সহনশীলতা ও টিকে থাকার’ যুদ্ধে মনোযোগ দিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, যে কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলার দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের বদলে অন্য মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা চীনের প্রতি বিশেষ আনুকূল্য প্রদর্শনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান নিরাপদ যাতায়াতের জন্য প্রতিটি ট্যাংকার থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করছে, যা থেকে তাদের দৈনিক আয় কোটি কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

গত সপ্তাহে ইরানি নেতারা একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন যেখানে স্থায়ীভাবে টোল আদায়ের কথা বলা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট যে কোনো জাহাজের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা একে রাজস্বের উৎস এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের আনুষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে। বিপরীতে, ইরান মার্কিন শত্রুদের (যেমন চীন) বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও চীন স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে ইরানকে যুদ্ধে সহায়তা করছে।

ইরানি আইনপ্রণেতা মোহাম্মদরেজা রেজাই কুচি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। অন্যান্য করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় যেমন ট্রানজিট ফি দিতে হয়, হরমুজও একটি করিডোর। আমরা এর নিরাপত্তা দিচ্ছি, তাই জাহাজগুলোর ফি দেওয়াটাই স্বাভাবিক।’

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এই প্রণালি দিয়ে যায়, যা বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। সৌদি আরব ও ইরাকের মতো পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ তেল রপ্তানি এই পথেই হয়।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার ৪১টি দেশের এক বৈঠকে বলেন, ‘আমরা দেখছি ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ দখল করেছে।’ তিনি জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে ইরান জাহাজে ২৫টিরও বেশি আক্রমণ করেছে এবং প্রায় দুই হাজার জাহাজে ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন।

কার্নেগির গবেষক নিকোল গ্রাজিউস্কি বলেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান এক বছরের মধ্যে তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ফের গুছিয়ে নিতে পারবে। আর ড্রোন বা ইউএভির ক্ষেত্রে এটি আরও সহজ, কারণ এগুলো ছোট বা বেসামরিক স্থাপনাতেও তৈরি করা সম্ভব।

মারওয়ান মুয়াশার সতর্ক করে বলেন, আরব বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার পুরোনো কৌশল এখন আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, ‘যদি ট্রাম্প প্রণালিটি না খুলে যুদ্ধ ত্যাগ করেন, তবে অন্য কেউ শক্তি প্রয়োগ করে তা খোলার চেষ্টা করবে না। কারণ সেই রাষ্ট্রগুলোর সেই সক্ষমতা বা সদিচ্ছা নেই।’

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন টাইমস

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৮৫