রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ধানের দাম কম – উৎপাদন খরচ বেশি, ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক

মো. বদরুল আলম, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য। একসময় কৃষকের প্রধান পেশা ছিল ধান চাষ। বছরের পর বছর জমিতে ধান ফলিয়ে সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনা ও অন্যান্য খরচ মেটানোর পাশাপাশি বছর শেষে কিছু টাকা সঞ্চয় করতেন কৃষকরা। সঞ্চয়কৃত টাকা দিয়ে নতুন জমি ক্রয় অথবা অন্যের জমি লিজ নিতেন। কিন্তু বর্তমানে ধানের ন্যায্যমূল্য না […]

ধানের দাম কম – উৎপাদন খরচ বেশি, ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:৩২

মো. বদরুল আলম, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য। একসময় কৃষকের প্রধান পেশা ছিল ধান চাষ। বছরের পর বছর জমিতে ধান ফলিয়ে সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনা ও অন্যান্য খরচ মেটানোর পাশাপাশি বছর শেষে কিছু টাকা সঞ্চয় করতেন কৃষকরা। সঞ্চয়কৃত টাকা দিয়ে নতুন জমি ক্রয় অথবা অন্যের জমি লিজ নিতেন। কিন্তু বর্তমানে ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক পুরনো কৃষক এবং কৃষক পরিবার। 

উপজেলার ছিলিমপুর, বেতুয়া, বড়চওনা, কচুয়া, নিশ্চিন্তাপুর, আড়াই পাড়া, কীত্তনখোলা, পাথারপুর’সহ অন্যান্য এলাকা ঘুরে একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, হালচাষ, ধান কাটা-মাড়াই ও কৃষিশ্রমিকের মজুরি সবকিছুতেই বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাড়েনি ধানের দাম। ফলে কয়েক মাস পরিশ্রম করে ধান উৎপাদনের পর বাজারে বিক্রি করেও অনেক কৃষকের উৎপাদন খরচ ওঠে না। বিশেষ করে ধান কাটার মৌসুমে কৃষিশ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন। ধান পাকার পর সময়মতো শ্রমিক না পেলে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার বেশি টাকা দিয়ে শ্রমিক নিয়োগ করলে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় কৃষক শাহজাহান মিয়া বলেন, আগে ধান চাষ করে সিজন শেষে কিছু লাভ (টাকা) থাকত। কিন্তু এখন সার,বিষ কিনতে বেশি টাকা লাগে, কামলার (শ্রমিক) দাম বেশি, সেচ ও অন্যান্য খরচও বেড়েছে। কিন্তু ধান বিক্রি করতে গেলে ভালো দাম পাওয়া যায় না। সব খরচ বাদ দিলে কৃষকের হাতে কিছুই থাকে না। ধান চাষের জন্য অনেক সময় ধার/ ঋণ নিতে হয়। আশা থাকে ধান বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করব। কিন্তু ধানের দাম কম থাকায় কখনোই পুরো ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। বছর শেষে লাভের বদলে ঋণের বোঝা টানতে হয় বেশিরভাগ কৃষককে।

স্থানীয় আড়াই পাড়া এলাকার কৃষক আ. মান্নান বলেন, বাজারে ধানের দাম কম থাকলেও চালের দাম তুলনামূলক বেশি। কৃষক তার উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত। ক্ষেতে ধান চাষ কমাই দিয়েছি। নিজের খাবারের যতটুকু লাগে ততটুকুই রোপণ করি। বাকি ক্ষেত পতিত আর ২টা বর্গা দিয়েছি। ধানের দাম কম থাকায় ছেলে ধান চাষ করতে চায় না। আবার ক্ষেত পতিত রাখতেও ভালো লাগে না। 

তিনি আরো বলেন, রোপনের সময় থেকে খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারলে ভালো হতো। পাশাপাশি সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম কমানো এবং কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি। 

উপজেলার কচুয়া এবং বড়চওনা ধানের বাজারে গিয়ে দেখা যায় নাজিরসাইল ধান মণ প্রতি ১৩৩০ থেকে ১৩৪০ টাকা, আটাইশ এবং উনেত্রিশ ধান মণ প্রতি ১১৪০-১১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। 

কৃষক বিল্লাল হোসেন ধান নিয়ে এসেছেন অপেক্ষা করছেন কিছুক্ষণ যদি ধানের বাজারের দাম বাড়ে। কিন্তু দাম না বাড়ায়, তিনি সর্বশেষ চলমান দামেই বিক্রি করে চলে গেলেন। 

কৃষক আ. মান্নানের ছেলে আসাদুল ইসলাম বলেন, ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে আরও বেশি কৃষক ধান চাষ থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন। এতে কৃষকের জীবন-জীবিকার পাশাপাশি দেশের খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি বলেন, কৃষকের ঘাম ও পরিশ্রমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হোক। ধান বিক্রি করে যেন কৃষক লোকসানের মুখে না পড়ে, বছর শেষে ঋণের বোঝা না, কিছুটা লাভ নিয়ে যেন ঘরে ফিরতে পারেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন জানান, ধানের দাম কম হওয়ার কারণে উপজেলায় কৃষিজমি পতিত নেই। উপজেলার অধিকাংশ জমিতেই মৌসুমভেদে কোনো না কোনো ফসলের আবাদ হচ্ছে। কেউ ধানের পরিবর্তে গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করছেন।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে হয়তো কোনো কোনো কৃষক নির্দিষ্ট মৌসুমে জমিতে চাষাবাদ করতে পারেন না। সেচের সমস্যাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত কারণে এক-দুজনের জমি সাময়িকভাবে অনাবাদি থাকতে পারে।

ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেললে কৃষি বিভাগের কোনো উদ্বেগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো কৃষক ধান চাষ করে ন্যায্যমূল্য না পেলে তিনি বিকল্প অন্য কোনো ফসল চাষ করতে পারেন।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।