শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু, ২০৩০ সালের মধ্যে অর্ধেকে নামাতে চায় সরকার: সড়কমন্ত্রী

দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে জানিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও এতে মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সোমবার রাজধানীর […]

প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু, ২০৩০ সালের মধ্যে অর্ধেকে নামাতে চায় সরকার: সড়কমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৩৯

দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে জানিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও এতে মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স, ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স এবং হাইওয়ে পুলিশের জন্য ৮০টি টহল মোটরসাইকেল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সড়ক নিরাপত্তায় নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত নিরাপদ সড়ক আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে থাকা বাজার সরিয়ে নেওয়া, আঞ্চলিক সড়কের সংযোগস্থলে প্রয়োজনীয় ডাইভারশন এবং সড়কে সঠিক মার্কিংয়ের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, শুধু সভা-সেমিনার করে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ সড়কের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগ ও জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত গতি, হেলমেট ব্যবহার না করা এবং পথচারীদের অসচেতনতা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চালকদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক চালক পরিবহন খাতে হেলপার হিসেবে কাজ করতে করতে ধীরে ধীরে গাড়ি চালানো শিখেছেন। তবে শুধু গাড়ি চালাতে জানলেই একজন দক্ষ চালক হওয়া যায় না; মহাসড়কে নিয়ম মেনে ও নিরাপদে গাড়ি চালানোর দক্ষতাও থাকতে হবে। এ প্রকল্পের আওতায় চালকদের প্রশিক্ষণ এবং শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পথচারীদের সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মহাসড়কের পাশে বাজার, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ অনেক সময় নির্ধারিত স্থান ব্যবহার না করে রাস্তা পার হন। কাছাকাছি ওভারপাস থাকলেও অনেকে তা ব্যবহার করেন না। এ ধরনের মানসিকতা পরিবর্তনে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

পুরোনো যানবাহন নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বাসের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর এবং ট্রাকের ২৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরোনো যানবাহন স্ক্র্যাপ ও রিসাইক্লিংয়ের জন্য নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের কাজ চলছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন এসব কেন্দ্রে নিয়ে স্ক্র্যাপ ও রিসাইক্লিং করা হবে।

দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, নতুন অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। মহাসড়কের পাশের হাসপাতালগুলোতে আলাদা ইউনিট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া প্রতি ১০ কিলোমিটার পরপর অ্যাম্বুলেন্স রাখার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দেশের ট্রমা সেন্টারগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করাও জরুরি।

হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশের জনবল প্রয়োজনের তুলনায় কম। পাশাপাশি যানবাহন ও মোটরসাইকেলেরও ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে হাইওয়ে পুলিশের জন্য ৮০টি টহল মোটরসাইকেল যুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঋণসহায়তা ও সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের প্রতিটি টাকা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকরভাবে ব্যয় করার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। জনগণের অর্থ ব্যয় করে এমন কোনো প্রকল্প নেওয়া যাবে না, যার সুফল জনগণ পাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জনগণকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও এতে মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে না পারলে নেওয়া সব উদ্যোগই ব্যর্থ হবে।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।