ভারত সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় দেশজুড়ে আবারও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে সোমবার (২৪ আগস্ট) দলের জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সিজেপির অভিযোগ, আগের আন্দোলন স্থগিতের সময় নরেন্দ্র মোদি সরকার যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, সেগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। বিশেষ করে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিহত নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য লিখিত ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি এখনো দেওয়া হয়নি।
দলটির দাবি, গত ২৫ জুলাই সরকারের আশ্বাসের ভিত্তিতে তারা আন্দোলন স্থগিত করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ তৈরি হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে সিজেপি জানায়, সরকারের ওপর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ বাড়াতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়ে জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে আলোচনা হবে। এর মধ্যে দেশজুড়ে নতুন করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরুর বিষয়টিও রয়েছে।
সিজেপির নেতাদের মতে, নতুন করে আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরির অন্যতম কারণ গত ১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে অনুষ্ঠিত শুনানি। দলটির অভিযোগ, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বিষয়ে আদালত সরকারের সহযোগিতা চাইলেও এখনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সিজেপি জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরের সমন্বিত তালিকা জমা দিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে তিনবার নির্দেশ দিয়েছে। তাদের দাবি, তালিকা পাওয়া গেলে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে আদালত একযোগে মামলাগুলো বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
তবে আদালতের নির্দেশের পরও কেন্দ্রীয় সরকার ওই তালিকা জমা দেওয়ার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
সিজেপির আরও দাবি, তাদের প্রাথমিক আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ হলেও আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট সব এফআইআর প্রত্যাহার, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিহত নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য সম্মানজনক ক্ষতিপূরণের লিখিত নিশ্চয়তাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো পূরণ হয়নি।
দলটি বলেছে, আগের আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত ছিল তাদের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। সরকার যেন সেই সদিচ্ছাকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে—এমন সতর্কবার্তাও দিয়েছে তারা। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থী, তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে দেশজুড়ে আবারও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে সিজেপি।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?