আগামীকাল সোমবার (১৭ নভেম্বর) জুলাই গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলার রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সংগঠিত হত্যাকাণ্ড ও দমন-পীড়নের নিউক্লিয়াস ছিলেন শেখ হাসিনা—প্রসিকিউশন আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে এ অভিযোগ উপস্থাপন করেছে।
পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার দাবি ট্রাইব্যুনালের কাছে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—১৪০০ আন্দোলনকারীকে হত্যা, হত্যায় উসকানি ও নির্দেশদান, প্ররোচনা, ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ এবং ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’। এ অভিযোগে ৫৪ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য, ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার আবেদনপত্র, ৬৯টি অডিও ক্লিপ, সিডিআর, ১৭টি ভিডিওসহ বিপুল আলামত পেশ করা হয়। মাত্র ১০৫ দিনে মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
রায়ের আগের দিন রবিবার বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যাটাস দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি দু’টি স্পষ্ট দাবি জানান—পূর্ণ ন্যায়বিচার এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
তিনি লেখেন, “আগামীকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে। গত বছরের ঢাকায় সংঘটিত প্রাণঘাতী সহিংসতা ও দমন-পীড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা পূর্ণ ন্যায়বিচার এবং স্বচ্ছতা দাবি জানাই।”
মামলার অপর দুই আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। মামুন ইতোমধ্যে রাজসাক্ষী হয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
রায়কে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য, আহতরা এবং আন্দোলনে সম্পৃক্ত সব পক্ষই আশা করছে—জুলুম-নির্যাতন, গুম-খুন ও গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনা উপযুক্ত শাস্তি পাবেন।