শেকৃবি প্রতিনিধি
৪৫তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের অপেক্ষায় ছিলেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী মীর তানভীর আহমেদ। কিন্তু নতুন কর্মজীবন শুরুর আগেই ট্রেনে কাটা পড়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন ২৯ বছর বয়সী এই তরুণ।
মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তানভীর পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ গম ও ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে টিলাহাটী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে তিনি নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রথমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে সিআইডি ও পিবিআইয়ের সহায়তায় পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ডিগ্রির চর গ্রামের তানভীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি দিনাজপুরের গম ও ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। চলতি বছরের জুনে তাঁকে দেবীগঞ্জ গম ও ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রে বদলি করা হয়।
চাকরির পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তানভীর। ৪৫তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে উত্তীর্ণ হওয়ার পর নতুন কর্মস্থলে যোগদানের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। ক্যাডার কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে যেতে পারলেন না।
তানভীর দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট। তাঁর বাবা একটি ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। পরিবারের সদস্যরা জানান, তানভীরের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু তাঁদের কাছে এখনো অবিশ্বাস্য। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারের যে স্বপ্ন ছিল, তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে তা মুহূর্তেই থেমে গেছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার শফিকুর রহমান জানান, পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করেছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।